Type the name of a full movie

Get
Showing posts with label Blogs. Show all posts
Showing posts with label Blogs. Show all posts

প্লুটোয় পাহাড় ভাসছে!

পাহাড় কি ভাসতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার গবেষকেরা বলছেন, ভাসমান পর্বতমালা সত্যিই আছে। সেটি বামন গ্রহ প্লুটোয়। সেখানকার একটি স্থানে এমন ভাসমান পাহাড় দেখা গেছে। 
সম্প্রতি নাসার পাঠানো নিউ হরাইজনস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁরা দেখেছেন, শীতল বামন গ্রহটিতে একটি পাহাড় ভেসে বেড়াচ্ছে। নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ এই পাহাড়কে বয়ে বেড়াচ্ছে। গবেষকদের ভাষ্য, এই পাহাড়ের নাম স্পুটনিক প্ল্যানাম। কয়েক মাইল বিস্তৃত এই পাহাড়টি বরফে আবৃত। তথ্যসূত্র: নাসা

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য সমাধান?


বারমুডা ট্রায়াঙ্গল এক দুর্ভেদ্য রহস্যের নাম। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে বিশ্ব অনেক দূর এগিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এ রহস্যের কিনারা করতে পারেনি কেউ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্যের সমাধান করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়ের গবেষকেরা উত্তর মেরুর ব্যারেন্টস সাগরের তলদেশে বেশ কিছু বড় গর্তের সন্ধান পেয়েছেন। আর্কটিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, এই গর্ত বা আগ্নেয়গিরির মুখগুলোর ব্যাস ৩ হাজার ২৮০ ফুট ও গভীরতা ১৩১ ফুট হতে পারে। থ্রিডি সিসমিক ইমেজিং পদ্ধতিতে এই গর্তগুলো শনাক্ত করেছেন তাঁরা। গবেষকেরা বলছেন, তেলের খনি থেকে সৃষ্ট উচ্চ চাপের মিথেন গ্যাসের উদগীরণে এ গর্ত সৃষ্টি হতে পারে।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই আবিষ্কারের ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নামের বিতর্কিত ওই এলাকায় জাহাজ ও বিমানের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারে। এর আগে ২০১৪ সালে সাইবেরিয়ান টাইমসকে দেওয়া রাশিয়ার গবেষক ভ্লাদিমির পোতাপভের এক সাক্ষাৎকারের উদ্ধৃতি দিয়েছে ডেইলি মেইল। পোতাপভের তত্ত্ব অনুযায়ী, মিথেন গ্যাসের উদগীরণ সমুদ্রকে উত্তপ্ত করে। মিথেনযুক্ত পানির কারণে জাহাজ ডুবে যায়। এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলেও বিশেষ পরিবর্তনের ফলে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল
ক্যারিবীয় সাগরের এক কল্পিত ত্রিভুজ এলাকা হলো বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। ত্রিভুজের তিন বিন্দুতে আছে ফ্লোরিডা, বারমুডা আর প্যুয়ের্তো রিকো। অবশ্য এই বিন্দু নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সে যা-ই হোক, এ অঞ্চলটিকে মারাত্মক রহস্যময় এলাকায় পরিণত করেছে কিছু খবর। বলা হয়, এ ত্রিভুজ অঞ্চলে অদ্ভুতভাবে হারিয়ে গেছে মানুষ, জাহাজ আর উড়োজাহাজ। রেখে যায়নি কোনো ধ্বংসাবশেষ। এসব ‘উড়ো’ খবর নিয়ে গবেষণা হয়েছে, ডকুমেন্টারি বানানো হয়েছে। শেষমেশ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় সব রহস্যের অসারতা প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু রহস্যপ্রিয় মানুষ এতে বিশেষ খুশি হতে পারেননি। তাঁরা এখনো বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে রহস্যের গন্ধ পান।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যময় চরিত্র প্রথম নিয়ে আসেন ই ভি ডব্লিউ জোনস। ১৯৫০ সালের বার্তা সংস্থা এপি প্রকাশিত একটি নিবন্ধে জোনস অভিযোগ করেন, এ এলাকায় বেশ কিছু উড়োজাহাজ ও নৌযান বেমালুম উধাও হয়ে গেছে, যেগুলোর কোনো সন্ধান আজ পর্যন্ত মেলেনি। দুই বছর পর ফেট ম্যাগাজিনের একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়, ১৯৪৫ সালে ফ্লাইট-১৯ নামের মার্কিন নৌবাহিনীর পাঁচটি বোমারু বিমানের একটি বহর উধাও হয়ে গেছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে। এই বহর থেকে শেষ বার্তা ছিল, ‘সবকিছুই খুব অদ্ভুত লাগছে। আমরা জানি না, কোন দিক পশ্চিম। সাগরকেও স্বাভাবিক দেখাচ্ছে না। আমাদের মনে হচ্ছে আমরা...’।

এরপর একের পর এক খবর গত শতকের শেষ পর্যন্ত তুমুল হইচই তুলেছে। যার মধ্যে আস্ত ডিসি বিমান, যাত্রীবাহী জাহাজ পর্যন্ত উধাও হয়ে যাওয়ার খবর ছিল।

তবে এসব খবরের পাশাপাশি ব্যাখ্যাও চলেছে। বিজ্ঞানীরা নানা ধরনের প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, এর সবই স্বাভাবিক ঘটনা। রং চড়িয়ে বলা হচ্ছে। আবার বলা হয়েছে, দুনিয়াজুড়ে দুর্ঘটনার যে হার, এতে বারমুডায় মোটেও বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে না। কখনো কখনো বারমুডা-সংক্রান্ত খবর তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, খবরটাই ভুয়া। রং চড়িয়ে লেখা হয়েছে ট্যাবলয়েডগুলোতে।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে কিছু তথ্য
অনেকের মতে, ক্রিস্টোফার কলম্বাসের কাছ থেকে সর্বপ্রথম এলাকাটির বিষয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা জানা যায়। কলম্বাস লিখেছিলেন, তাঁর জাহাজের নাবিকেরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি এবং আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এ ছাড়া তিনি কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক নির্দেশের কথাও বর্ণনা করেছেন।

অনেকে আবার মনে করেন, নাবিকেরা যে আলো দেখেছেন, তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নৌকায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত আগুন এবং কম্পাসে সমস্যা হয়েছিল নক্ষত্রের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে। ১৯৫০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিক ই ভি ডব্লিউ জোনস সর্বপ্রথম এলাকাটি নিয়ে খবরের কাগজে লেখেন। অনেকে মনে করেন, ওই অন্তর্ধানের কারণ নিছক দুর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। তা ছাড়া এই ত্রিভুজের ওপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ সমুদ্রস্রোত বয়ে গেছে। এর তীব্র গতি অধিকাংশ অন্তর্ধানের কারণ। তথ্যসূত্র: ডিসকভারি, দ্য গার্ডিয়ান।

ওষুধ আয়ু বাড়িয়ে দেবে ১০ বছর!

যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক দাবি করেছেন, নতুন একটি ওষুধ মানুষের আয়ু প্রায় ১০ বছর বাড়িয়ে দিতে পারে। বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার চেষ্টায় এ সাফল্যকে এক ধাপ অগ্রগতি বলা যায়। তবে এ ওষুধ মানুষের হাতে পৌঁছাতে আরও বহু বছর লাগবে।
গবেষণায় দেখা যায়, জিএসকে-থ্রি নামের প্রোটিন অণুগুলো মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে দেয়। আর সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারলেই জীবনকাল বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ফলের মাছির শরীরেও জিএসকে-থ্রি প্রোটিন থাকে। এদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, লিথিয়াম প্রয়োগে ওই প্রোটিনের কার্যক্রম ব্যাহত করা যায়। আর এতে প্রাণীটির আয়ু ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজি অব অ্যাজিং এবং ইউরোপিয়ান মলিকিউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরির যৌথ এ গবেষণার সূত্র ধরে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, লিথিয়াম বা সমজাতীয় অন্য কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম হলে সেগুলো মানুষের আয়ু বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি ওই প্রোটিন অণু সম্পর্কে আরও বিশদ ধারণা অর্জন করতে পারলে প্রবীণদের বিভিন্ন অসুখ (যেমন আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার প্রভৃতি) নিরাময়ের চেষ্টায়ও সাফল্যের সুযোগ রয়েছে।
এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন সেল রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এটির প্রধান লেখক জর্জ ইভান ক্যাস্টিলো-কুয়ান বলেন, জিএসকে-থ্রি নিয়ে তাঁরা অনেক আশাবাদী। মধ্যবয়সে এটি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর চিকিৎসা শুরু করতে পারলে প্রবীণদের অনেক রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনকে দীর্ঘ করার সম্ভাবনা রয়েছে। জীবনকাল বৃদ্ধি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। সুস্থভাবে বাঁচতে না পারলে জীবনকে দীর্ঘায়িত করার সুফল মিলবে না। লিথিয়ামজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে আলঝেইমার রোগটি শুরু হওয়ার বয়স ৭৫ থেকে ৯০ বছরে নেওয়া গেলে অবশ্যই সেটা অনেক ভালো হবে।

দূরের তারায় ক্ষুদ্র অনুসন্ধানী মহাকাশ যান পাঠানোর প্রকল্পে হকিংয়ের সমর্থন


মহাকাশের গহিন থেকে আরও গহিনে কী আছে? এই জিজ্ঞাসা নতুন নয়। সেই আগ্রহ থেকেই মহাশূন্যে পাঠানো হচ্ছে একের পর এক মহাকাশ যান, চলছে বিস্তর গবেষণা। কেমন হতো যদি প্রজাপতির মতো আকৃতির শত শত মহাকাশ যান বেরিয়ে পড়ত কয়েক আলোকবর্ষ দূরে অনুসন্ধানের জন্য? নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর এক ব্যাপার হতো সেটা! কিন্তু অনেকেই হয়তো বলবেন, এ শুধু কল্পনাতেই হতে পারে, জীবদ্দশায় দেখে যাওয়া সম্ভব নয়। তাদের জন্য একটা তথ্য—বিশ্বের সেরা মেধাবীরা এখন উঠেপড়ে লেগেছেন এই ধারণার বাস্তবায়নে। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং ও ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ তাঁদের অন্যতম।
আমাদের সবচেয়ে কাছের সৌরমণ্ডল ‘আলফা সেন্টুরি’-এ অনুসন্ধান চালানোর জন্য ১০ কোটি ডলারের ‘ন্যানোক্রাফট’ বানানোর এক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তাঁরা। ১৩ এপ্রিল রুশ উদ্যোক্তা ইউরি মিলনারের সঙ্গে যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হকিং বলেন, ‘আজ মহাজগতের দিকে আমরা আমাদের পরবর্তী মহাপদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। কারণ, আমরা মানুষ এবং উড়ে বেড়ানো আমাদের স্বভাব।’
‘ব্রেকথ্রু স্টারশট’ নামের মহাকাশ ভ্রমণের এই প্রকল্পের পরিচালনায় আছেন হকিং, মিলনার ও জাকারবার্গ। নাসার অ্যামস রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক পিট অরডেনকে প্রধান করে এই প্রকল্পে কাজ করছেন বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, মাত্র কয়েক গ্রাম ওজনের শত শত ক্ষুদ্রাকায় মহাকাশ যান তৈরি করা। এতে থাকবে ক্যামেরা, ফোটন থ্রাস্টারস, পাওয়ার সাপ্লাই, দিকনির্দেশক এবং যোগাযোগের যন্ত্র। একটি রকেটের মাধ্যমে একে আকাশে ছুড়ে দেওয়া হবে। তারপর পৃথিবী থেকে শক্তিশালী আলোকরশ্মি পাঠিয়ে এর বেগ ঘণ্টায় ১০ কোটি মাইলে রূপান্তর করা হবে। আলোর গতির পাঁচ ভাগের এক ভাগ গতিতে এটা চলবে এবং এখনকার যেকোনো মহাকাশ যানের চেয়ে বেশি।
ক্ষুদ্র মহাকাশ যানগুলোর গন্তব্য হবে আলফা সেন্টুরি, যেখান থেকে ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানো হবে। গবেষকেরা মনে করছেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২০ বছরের মতো। তবে এই প্রকল্পের সাফল্যের জন্য এখনো অনেক প্রকৌশলগত বাধা মোকাবিলা করতে হবে বলে তাঁরা স্বীকার করেছেন। এর সঙ্গে অনেক অর্থ এবং সময়ের বিষয়ও যুক্ত।
মিলনারের মতে, এই প্রকল্পে সব মিলিয়ে এক হাজার কোটি ডলারের মতো খরচ হতে পারে। এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা চ্যালেঞ্জ হলেও আশা হারাচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।
মিলনার বলেন, ‘মানবজাতির গল্পটা এক মহাপদক্ষেপের সমাহার। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে গিয়েছিলেন। আজ তারকারাজির উদ্দেশে পরবর্তী মহাপদক্ষেপের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সূত্র: সিএনএন

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে সবুজ ধূমকেতু!

ধূমকেতুর নাম কমেট লিনিয়ার। রং সবুজ। এটি ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে যা দেখতে পাবেন উত্তর গোলার্ধের মানুষরা। আর ২ দিন পর সূর্যোদয়ের আগে খালি চোখে আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যাবে সবুজ রঙের এই মহাজাগতিক ‘রহস্য’কে। সাধারণভাবে ধূমকেতু দেখতে যতটা উজ্জ্বল, লিনিয়ার কমেট তার চাইতে অনেক গুণ বেশি উজ্জ্বল। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৩ লাখ মাইল দূর দিয়ে যাবে এই ধূমকেতু। আকাশের দক্ষিণদিকে দেখা যাবে এটাকে। তাই উত্তর গোলার্ধের সৌভাগ্যবান মানুষেরা দেরি না করে বায়নোকুলার রেডি করে রাখুন আর দেখুন সবুজ ধূমকেতুটিকে।


মঙ্গলগ্রহে প্রাণের রহস্য!


মঙ্গলগ্রহে প্রাণের রহস্য নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিচ্ছেন মহাকাশ-বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, ধূমকেতু আর গ্রহাণুর বিস্ফোরণই মঙ্গলে প্রাণের জন্ম দিয়েছিল। ক্রমাগত বিস্ফোরণ আর তাপবিকিরণে উত্তপ্ত হয়েই মঙ্গল প্রাণের অনুকূল একটি গ্রহে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলে যে প্রাণ ছিলই- সে বিষয়ে যত দিন যাচ্ছে, নিশ্চিত হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে লাল গ্রহে একসময়ে বহতা জলের ধারার অস্তিত্ব ছিল।  খোঁজ মিলেছে শুকিয়ে যাওয়া শতাব্দী-প্রাচীন নদীখাত, ব-দ্বীপ এবং নদীতটেরও! সেই সূত্র ধরেই বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলাইজেশনের সাহায্যে খুঁজতে নেমেছিলেন মঙ্গল গ্রহের উষ্ণ এবং শীতল তাপপ্রবাহের গতিবিধি।  দেখা গেল, অসংখ্য ধূমকেতু আর গ্রহাণুর বিস্ফোরণে প্রাণের উপযোগী উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মঙ্গলের মাটিতে। তবে, সেটুকুর কথা বাদ দিলে বেশির ভাগ সময়টাই মঙ্গল কাটিয়েছে শীতল থেকে শীতলতর দশায়! একই অবস্থা হতে পারত পৃথিবীরও। হয়নি কেবল তার সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্তিত্বের জন্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ স্রোত ক্রমাগত বহমান হয়ে ধরে রেখেছে পৃথিবীর উষ্ণতা, ফলে পৃথিবীতে প্রাণ থেকে গিয়েছে, অভিমত বিজ্ঞানীদের।

সমুদ্রতলে ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ


আগুর পাখি বলে মানেন অনেকে। পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন মাত্র ৩৯ বছর। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তার মতো আলোড়ন আর কজন তুলতে পেরেছে? সে হিসাব কষলে, তিনি একাই ইতিহাস কাঁপিয়েছেন। তিনি ক্লিওপেট্রা। যার নামের সঙ্গে মিশে আছে সৌন্দর্য, মোহনীয়তা, ক্ষমতা আর প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ। প্রাচীন মিসরের নাম যারা জানেন তাদের কাছে ক্লিওপেট্রা অবিসংবাদিত। সর্বকালের সেরা ক্ষমতাবান নারীর তালিকায় তাকে উপরের দিকে রাখলে কি ভুল হবে? ক্লিওপেট্রার রূপ লাবণ্যের গল্প বারবার উচ্চারিত হয়েছে। তবে মিসর কাঁপানোর ক্ষমতা যার মুঠোবন্দী ছিল তাকে নিয়ে কৌতূহল অন্য উচ্চতার। যেটা যুগে যুগে উপলব্ধি করেছে মানুষ। ইতিহাসবেত্তা থেকে শুরু করে ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ফিরে ফিরে তাকে ঘিরে লিখেছেন হাজার হাজার পৃষ্ঠা। মঞ্চে উঠেছে তার ট্র্যাজেডি। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্র’, জর্জ বার্নাড শর ‘সিজার ক্লিওপেট্রা’, জন ড্রাইডেনের ‘অল ফর লাভ’, হেনরি হ্যাগার্ডের ‘ক্লিওপেট্রা’। মিসরের রানী ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে বহু মিথ ছড়িয়ে আছে মানুষের মনে, বইয়ে। শুধু তার সময়েই নয়, এখনো ইতিহাস কাঁপানো এ কিংবদন্তী নারী বহু পুরুষের কাছে আকাঙ্ক্ষিত। মিসরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় ছিল তার একক আধিপত্য। খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ অব্দ।


মিসর জয় করেন বীর আলেকজান্দার। সেই জয়ের স্মারক হিসেবে নতুন এক নগরী স্থাপন করেন তিনি। সে নগরের নাম রাখা হয় আলেকজান্দ্রিয়া। এরপর থেকে মিসর শাসন করে গ্রিসের টলেমাইক বংশ। ক্লিওপেট্রা এই বংশের কন্যা ছিলেন। প্রথমে বাবা ইরিয়াক-২ এর সঙ্গে পরে একাই ফারাও হিসেবে বসেন মিসরের সিংহাসনে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নারী শাসক ক্লিওপেট্রা সপ্তম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন মেসিডোনিয়ান বংশোদ্ভূত সপ্তম মিসরীয় রানী। অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ৫১ অব্দে রোম সম্রাট টলেমি অলেতিস মারা যান। এই বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার কে হবেন সে নিয়ে চারদিকে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে তিনি বেছে নেন ক্লিওপেট্রা ও তার পুত্র টলেমিকে। ক্লিওপেট্রার বয়স তখন সবে ১৮ বছর। অলেতিস পুরো সাম্রাজ্য উইল করেন টলোম ও ক্লিওপেট্রাকে। অবশ্য মৃতুর সময় এও বলে যান এই বিশাল সাম্রাজ্য রোমান নেতা পম্পেও দেখাশোনা করবেন। শুধু রাজ্য নয় তার সন্তানদের দেখাশোনা করার দায়িত্বও তার হাতে দিয়ে যান। সমস্যা দেখা দিল অন্যখানে। সে সময় যে মিসরীয় আইন তাতে দ্বৈত শাসনের কিছুটা বাধ্যবাধকতা ছিল রানী ক্লিওপেট্রার জন্য। নিয়ম অনুযায়ী রানী ক্লিওপেট্রার একজন নিজস্ব সঙ্গী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। যে কারণে ক্লিওপেট্রার কাছে বিয়ে ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। রাজরক্ত রক্ষায় ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করতে হয় তারই ছোটভাই টলেমিকে। টলেমির বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। এই বিয়ের ফলে আর আইনি বাধা রইল না। পুরো রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বভার ক্লিওপেট্রার হাতে এসে গেল। ক্লিওপেট্রা এবং তার স্বামী ১২ বছর বয়সী ছোট ভাই টলেমি মিসরের দায়িত্ব নেন। এটা বলা বাহুল্য, আদতে ক্লিওপেট্রাই সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। ক্লিওপেট্রার রাজ্য শাসন নিয়ে স্পষ্ট করে অনেক কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। তবে তার রাজ্যের ওপর নানা ঝড়-ঝাপটা আসতে শুরু করে। সাহসীকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ক্লিওপেট্রা যেভাবে মিসরকে আগলে রাখতে চাইছিলেন তা যথেষ্ট ছিল না। তবু ক্ষমতায় আরোহণের পর নানা প্রতিকূলতায় ক্লিওপেট্রা তার শাসন চালিয়ে যান। তার রাজ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ৪৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে। ফারসালুসের যুদ্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাপতি পম্পে পরাজিত হন। সে বছরই আলেকজান্দ্রিয়ায় ফেরার পথে ফারসালুসের হাতে নিহত হন। যুদ্ধ থেকে পালাতে গিয়ে ক্লিওপেট্রার স্বামী ও ভাই টলেমি মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যুর পর ক্লিওপেট্রা হয়ে ওঠেন মিসরের একমাত্র রানী। পুরো রাজ্যভার এখন তার হাতে। ক্ষমতার পুরো পেয়ালা তার হাতে উঠে আসার পর ক্লিওপেট্রার মিসরের দেখা মেলে। 


ক্লিওপেট্রার জীবনে আসতে থাকে নানা গল্প। শুরুতেই আবির্ভাব ঘটল রোমের পরাক্রমশালী বীর মার্ক অ্যান্টনির। ক্লিওপেট্রার বুদ্ধিমত্তা আর সৌন্দর্যের কথা তখন রাজ্য থেকে রাজ্যে ছড়িয়ে গেছে। লোকমুখে সে কথা অ্যান্টনির কানেও পৌঁছেছিল। অ্যান্টনি চাইলেন যে কোনোভাবেই হোক ক্লিওপেট্রার সঙ্গে দেখা করবেন। রোম থেকে অ্যান্টনি এলেন ক্লিওপেট্রার রাজকীয় প্রাসাদে। এ মিথ কে না জানে, প্রথম দেখাতেই ক্লিওপেট্রার মন জিতে নেন অ্যান্টনি। অবশ্য কারও কারও মতে মিসর আক্রমণ করতে এসে ক্লিওপেট্রার প্রেমে পড়ে যান রোমান বীর অ্যান্টনি। সে যাই হোক, প্রেমের আগুনে তখন পুড়ছেন দুজনেই। এদিকে হিসাব বেশ পাল্টে গেছে। ক্লিওপেট্রা শুধু প্রেমই পেলেন না, সঙ্গে মুফতে পেয়েছেন সিংহাসন রক্ষায় এক পরাক্রমশালী বীরের সমর্থন। অ্যান্টনি কিন্তু বিবাহিত ছিলেন। তার পত্নী ফুলভিয়ার মৃত্যু এবং পম্পের বিদ্রোহ এলোমেলো করে দেয় তাদের। রোমে তখন গৃহযুদ্ধের দাবদাহ। এরপর গল্পে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। ক্লিওপেট্রার জীবনে আবির্ভাব ঘটে মধ্যবয়সী বীর জুলিয়াস সিজারের। এলোমেলো মুহূর্তে সিজারকেও আঁকড়ে ধরেছিলেন ক্লিওপেট্রা। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। রাজাদের জীবনের দুঃসময় সব শেষ করে দিয়ে যায়। একসময় অসহায় অ্যান্টনি আত্মহত্যা করেন। ক্লিওপেট্রাও মৃত্যুকে বেছে নেন। ঐতিহাসিকদের মতে ক্লিওপেট্রা বিষধর সাপের দংশন খেয়ে আত্মহত্যা করেন। তার মৃত্যুর পর ফারাও হন তার ছেলে সিজারিয়ান। কিন্তু তাকে হত্যা করে মিসরের শাসনভার নেন জুলিয়াস সিজার অক্টাভিয়ানাস। মিসরে শুরু হয় রোমান শাসন। ক্লিওপেট্রাকে নিয়ে সেই কৌতূহলের শেষ নেই আজও। এখনো আগ্রহীরা খোঁজ করেন তার চিহ্নটুকু। ক্লিওপেট্রা এবং তার শাসন পদ্ধতি সবই যেন রহস্যময়। ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ এবং সাম্রাজ্যের বড় অংশ এখন ঘুমিয়ে আছে ভূমধ্যসাগরের নিচে। গ্রিক ঐতিহাসিক স্ত্রাবোর লেখায় জানা যায় ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ ছিল মিসরের অ্যান্তিরহোদোস দ্বীপে। এই দ্বীপের অস্তিত্ব বহুদিন আধুনিক পৃথিবী জানতে পারেনি। শেষতক জানা গেল, খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প এবং সুনামিতে ক্লিওপেট্রার প্রাসাদসহ এই দ্বীপটিকে গ্রাস করে নিয়েছে ভূমধ্যসাগর। আলেকজান্দ্রিয়া শহরের উপকূলেই ছিল এই দ্বীপ। প্রায় এক হাজার ছয়শ বছর আগে ভূমিকম্প ও সুনামিতে তলিয়ে যায় আলেকজান্দ্রিয়ার বিখ্যাত বাতিঘরও।


মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার একদল ডুবুরি হঠাৎ করেই পেয়ে যান ক্লিওপেট্রার প্রাসাদ ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। এই ডুবুরি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ফ্রান্সের প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্র্যাঙ্ক গর্ডিও। ১৯৯০ থেকে তারা সাগর চষে বেড়ান শুধু ক্লিওপেট্রার হারিয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যের খোঁজে। ১৯৯১ সালের ২৩ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরের গভীরে পাওয়া যায় ক্লিওপেট্রার প্রাসাদের অস্তিত্ব। কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে বলা হলো, এই প্রাসাদ তৈরি হয়েছিল রানীর জন্মেরও ৩০০ বছর আগে। দেখা গেল পানির অতলে ঘুমিয়ে আছে প্রাচীন নগরী, লাল রঙের মিসরীয় গ্র্যানাইটে তৈরি দেবী আইসিসের মূর্তি ক্লিওপেট্রার পরিবারের সদস্যদের মূর্তি প্রচুর অলঙ্কার বাসনপত্র এবং স্ফিংক্সের দুটি মূর্তি। রয়েছে সে সময়ের মুদ্রা থেকে শাসকদের মূর্তি। ডুবুরিরা তুলেও এনেছেন মিসরের শেষ রানী ক্লিওপেট্রার রাজ্যের অনেক মূর্তি, মুদ্রা ইত্যাদি। প্রত্নতত্ত্ববিদ গর্ডিও ও তার দল ক্লিওপেট্রা এবং তার প্রেমিক জুলিয়াস সিজারের ছেলে সিজারিয়ানের মাথার পাথরের মুকুট উদ্ধার করে। সাগরের নিচে প্রায় এক হাজার ৪০০ বছরের বালি আর কাদা মাখা ইতিহাসের অমূল্য এই দলিলের বেশ কিছু নিদর্শন তুলে আনা হয়েছে জনসমক্ষে। কিন্তু প্রতিকূলতার জন্য বেশির ভাগই রয়ে গেছে পানির নিচে। 

সাঁতার কাটেনা কিন্তু হেঁটে বেড়ায় যে 'মানুষ মাছ'..


মাছটিকে বলা হচ্ছে সমুদ্র দানব। কেউ কেউ আবার ভিনগ্রহের জীব বলেও দাবি করছেন। ক্যারিবিয়ান সাগরে সন্ধান মিলেছে এমনই এক অদ্ভুত মাছের যে মাছের রয়েছে মানুষের মতো নাক, আঙুল, পায়ের পাতা। মানুষের মতোই সেই মাছ নাকি সমুদ্রে হেঁটে চলে বেড়ায়। ক্যারিয়াকো দ্বীপের স্থানীয় জেলেরা মাছটি দেখে তাজ্জব বনে গেছেন। যে জেলে প্রথম এই মাছ দেখেন, তিনি বলেন, ''আমি তো ভাবতেই পারি না কোনো মাছ দেখতে এমন হতে পারে। আমি ভেবেছিলাম ওটা আসলে মানুষ। তারপর ভাবলাম মানুষ মাছ।'' ৭৪ বছর বয়সী জেলে হোপ ম্যাকলরেন্স জানান এই অদ্ভুত মাছ ধরার অভিজ্ঞতা। তার জালেই ধরা পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। হোপ বলেন, ৫০ বছর ধরে মাছ ধরছি কিন্তু এমন মাছ কোনও দিন দেখিনি। তার মুখের কাছে মানুষের মতো নাক রয়েছে। কোনও পাখনা নেই। পায়ের পাতা রয়েছে।’’ তবে হোপের দাবি, পাখনা না থাকায় এই মাছ সাঁতার কাটতে পারে না কিন্তু হাঁটতে পারে

ট্যাটু আঁকাই যার নেশা



মানুষের জীবনে কত কিছুই না করার শখ হয়। যেমন- মাছ ধরা, ছবি আঁকা, বাগান করা, বই পড়া ইত্যাদি। তাই বলে নিজের শরীরে ট্যাটু আঁকাও! হ্যাঁ, বিট্রেনের এক ব্যক্তি ট্যাটু এঁকে বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছেন। তার নাম টনি বার্টন। মাথা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত কোথাও ফাঁকা নেই। সারা শরীর জুড়ে নানা রকম শিল্পকলা। যেন গোটা এশিয়াটাকেই সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন ব্রিটেনের সর্বাধিক ট্যাটু করা মানুষ টনি বার্টন। সেই ছোটবেলা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত চারবার গোটা শরীরকে ট্যাটু দিয়ে ঢেকে ফেলেছেন টনি। বাদ রেখেছেন শুধু মুখ আর পায়ের পাতা দুটি। ট্যাটু করাটাই তাঁর নেশা। ১২ বছর বয়সে করিয়েছিলেন প্রথম ট্যাটু। সেটা ছিল একটা ছোট্ট ড্যাগার আর মাথার খুলি। আধ ঘণ্টার সেই ট্যাটু করতেই কেঁদে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। খুব তাড়াতাড়ি অবশ্য ব্যথার সঙ্গে দোস্তি করে নিয়েছিলেন। নেশা হয়ে দাঁড়ায় ট্যাটু করা। একটানা ১৮ ঘণ্টা ধরে করিয়েছেন দুই হাত জুড়ে ট্যাটু। টমের গোটা শরীর জুড়ে এখন ড্রাগন, বাঘ থেকে শুরু করে দেব-দেবী, নানারকম ঘরবাড়ি এশিয়ান আর্ট অসংখ্য থিম। ১৮ বছর ধরে বানানো তাঁর এই শিল্পকলা এখন রীতিমতো দেখার জিনিস। যেখানেই যান লোকে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলে রাখেন ‘ট্যাটু ম্যান’-এর। তিনি যেন এশিয়ান সংস্কৃতির জলজ্যান্ত বিজ্ঞাপন। ট্যাটু অবশ্য টনির তিন ছেলে মেয়েদেরও বড্ড পছন্দের। ছোট ছেলেটি তো পেন দিয়েই গায়ে ট্যাটু এঁকে বলে বাবার মতো হবে।

ভূমিকম্পের আগাম খবর দেবে স্মার্টফোন

ভূমিকম্প শব্দটাই বুকে কম্পন তুলে দিতে যথেষ্ট। আর ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থা দেখে কাঁপে বিশ্ব মানবতা। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি অ্যাপের খবর দিচ্ছেন যা ভূমিকম্পের আগাম আঁচ বা সেনসর হিসেবে কাজ করবে। মাই সেক (MyShake) নামের এই অ্যাপটি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ডয়েচ টেলিকম এজি-র গবেষকরা স্মার্টফোনের মোশন সেন্সরের মাধ্যমে তৈরি করেছেন। এই অ্যাপটির মাধ্যমে কম্পনের কিছু সেকেন্ড আগে ব্যাপকতা, মাত্রা এবং যাবতীয় তথ্য পৌঁছে যাবে অ্যাপটির ব্যবহারকারীদের কাছে। নেপাল, পেরুর মত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে এই অ্যাপে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। এইসব দেশে ভূমিকম্পের জন্য কোনো গ্রাউন্ড বেস সেসমিক নেটওয়ার্ক নেই কিন্তু লক্ষাধিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারী আছেন। গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি ডাউনলোড করা যাবে MyShake নামের এই অ্যাপটি।

নিলামে উঠছে ইমেলদা মার্কোসের 'বাজেয়াপ্ত অলঙ্কার'



ফিলিপাইনের সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের স্ত্রী ইমেলদা মার্কোসের বাজেয়াপ্ত অলঙ্কার নিলামে তুলছে দেশটির সরকার।যার মূল্য ২১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ফার্দিনান্দের ছেলে মার্কোস জুনিয়র আগামী মে মাসের নির্বাচনে জিতলে ‘অলঙ্কার বিক্রি’ আটকে যেতে পারে এমন ধারণায় তাড়াহুড়ো করে নিলাম সম্পন্ন করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।  প্রসঙ্গত, মার্কোস জুনিয়র আসন্ন নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন।   একুশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৮৬ সালে ফার্দিনান্দকে উৎখাত করা হয়। পরবর্তী সরকার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফার্দিনান্দ পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয় এমন অভিযোগে ইমেলদা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় হাজার কোটি ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে, যার মধ্যে অলঙ্কারগুলোও আছে। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে ইমেলদা মার্কোসের ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ইমেলদা মুক্তি পান।

নতুন ৫টি বৃহস্পতিসদৃশ গ্রহ আবিষ্কার

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা আমাদের সৌরজগতের বৃহ্ত্তম গ্রহ বৃহস্পতির মতো দেখতে নতুন ৫টি গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। গ্রহগুলো বৈশিষ্ট্যে অনেকটাই বৃহস্পতির মতো এবং এগুলো তাদের হোস্ট তারকার বেশ কাছাকাছি থেকে প্রদক্ষিণ করে। ফিজডটঅর্গ তাদের এক এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। খবর পিটিআই'র নতুন আবিস্কৃত ৫টি গ্রহের নাম দেয়া হয়েছে ডাব্লিউএএসপি-১১৯ বি, ডাব্লিউএএসপি-১২৪ বি, ডাব্লিউএএসপি-১২৬ বি, ডাব্লিউএএসপি-১২৯ বি, ডাব্লিউএএসপি-১৩৩ বি। ব্রিটেনের কীল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা নতুন এ ৫টি গ্রহ আবিস্কার করেছেন। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সার্চ ফর প্ল্যানেটস-সাউথ [ডাব্লিউএএসপি-সাউথ] যন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা গ্রহগুলো আবিষ্কার করেন। এটি হচ্ছে মূলত ৮টি ক্যামেরার একটি সিস্টেম যা দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় অাকাশের বাছাইকৃত অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হয়। 'আরজিভ' নামে একটি জার্নালে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

মহাকাশে 'মানব' রোবট পাঠাচ্ছে রাশিয়া


এবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএসে অত্যাধুনিক 'মানব' রোবট পাঠাচ্ছে রাশিয়া। এই রোবট নভোচারী দিয়ে বিপদজনক পরীক্ষা চালাবে দেশটি। মহাকাশে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এই রোবট। অবশ্য মানুষের নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের আওতায় থেকেও কাজ করবে এই রোবট।  ইতোমধ্যে দু’টি রোবট নভোচারীর সামরিক সংস্করণ পরীক্ষামূলভাবে বানিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। 'ফিওদোর' নামের রোবট নভোচারীর আদল অনেকটা মানুষের মতোই। রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়ন্ত্রণকারীকে বিশেষ পোশাক পরতে হয় এবং তিনি যে অঙ্গভঙ্গি করবেন তাই হুবহু নকল করবে সেটি। একজন সাধারণ নভোচারীর পক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টার বেশি মহাকাশে ঘুরে বেরানো সম্ভব নয়। কিন্তু রোবট নভোচারী ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াতে পারে।

আত্মহত্যার জঙ্গল!

পিছনে মাউন্ট ফুজি। তার ঠিক নীচেই ছড়িয়ে রয়েছে বিস্তৃত সবুজ ভূমি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এ এক অপার সৌন্দর্য। কিন্তু প্রাকৃতিক এ নৈস্বর্গের আঁড়ালেই লুকিয়ে আছে মৃত্যুর হাতছানি। জাপানে মাউন্ট ফুজির পায়ের কাছে এই যে বিস্তৃত জঙ্গল, তার নাম আওকিঘারা ফরেস্ট। প্রতি বছর এখান থেকে একাধিক লাশ, দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এই জঙ্গলটি পৃথিবীর অন্যতম সুইসাইড স্পট হিসেবে কুখ্যাত। শুধু কি দেহ বা দেহাবশেষ? পুলিশের বক্তব্য, জঙ্গলের গভীরে কঙ্কালের ভিড় লেগে রয়েছে। গাছ এবং জংলার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে তারা। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। বলা বাহুল্য, এটিই জাপানের সবথেকে ভুতুড়ে জায়গা। এবার এই জঙ্গল নিয়ে ছবিও করছে হলিউড। তবে জঙ্গলে শ্যুটিং করার অনুমতি মেলেনি। কিন্তু কেন এই জঙ্গলকেই আত্মহত্যার জন্য বেছে নেন সকলে? জাপানিদের বক্তব্য, ১৬ বর্গমাইল দীর্ঘ এই জঙ্গলে বাস অশরীরীদের। তারাই ডেকে আনে জীবিত মানুষকে। সেই অশরীরীর ডাকও নাকি জঙ্গলের ভিতর থেকে শোনা যায়। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কী বলছে? বলা হয়, ফুজির পায়ের কাছে নিজেকে বলিদান দেওয়ার রীতি হয়তো কখনও ছিল। সেখান থেকেই এই ধারা চলে আসছে। আগে যা ছিল আত্মবলিদান, পরে তা-ই পাল্টে আত্মহত্যায় দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গড়ে ৩০ জন করে বছরে আত্মহত্যা করতেন। কিন্তু ২০০৪ সাল নাগাদ এই সংখ্যাটাই বে়ড়ে দাঁড়ায় ১০৮-এ। ২০১০ সালে ২৪৭জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, ৫৭ জন মারা যান। আত্মহত্যা ঠেকাতে প্রশাসন জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছে। ''আপনার জীবন মূল্যবান'', ''আত্মহত্যার আগে বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলুন'', ''প্রিয়জনের মুখগুলো দয়া করে মনে করুন''-গোত্রের কথাবার্তা লেখা রয়েছে তাতে।

তাজমহল প্যালেস [ভারত]

ভারতের সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল হোটেলগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে তাজমহল প্যালেস হোটেল। মুম্বাইয়ের কোলাবা অঞ্চলে ১৯০৩ সালে হোটেলটি নির্মাণ করেন জামশেদজি টাটা। সে সময় মুম্বাইয়ের ওয়াটসন হোটেল ছিল ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন হোটেল। একবার জামশেদজি টাটা ওয়াটসন হোটেলে উঠতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ক্রুুদ্ধ হয়ে জামশেদ টাটা হোটেল তাজমহল প্যালেস নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। হোটেলের নির্মাণ পরিকল্পনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় ব্রিটিশ নির্মাণ প্রকৌশলী ডব্লিউ এ চ্যাম্বারসের ওপর। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো তাজমহল প্যালেস হোটেল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পর চেম্বারসের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। কথিত আছে, চেম্বারস যেভাবে তাজমহল প্যালেস হোটেলের নকশা এঁকেছিলেন, নির্মাণ কর্মীরা তা পুরোপুরি অনুসরণ করেননি। ফলে হোটেলের নির্মাণ চেম্বারসের মনের মতো হয়নি। এ ঘটনায় তিনি এতই কষ্ট পান যে হোটেলের পঞ্চম ফ্লোরের বেলকনি থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। তারপর থেকেই তাজমহল প্যালেস হোটেলের নানা ভুতুড়ে কাজ-কারবারের কথা লোকমুখে শোনা যায়। দীর্ঘদিন ধরে অনেক মানুষের মুখে শোনা গেছে, তারা হোটেলের পঞ্চম ফ্লোরে ওই ব্রিটিশ প্রকৌশলীর মতো সাদা চুল-দাড়ির অধিকারী একটি অবয়ব ঘুরতে দেখেছেন। তবে তাজমহল প্যালেস হোটেলের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায়টি লেখা হয় ২০০৮ সালে। মুম্বাইতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলায় হোটেলটি পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। তিন দিনের খণ্ডযুদ্ধে মারা যায় প্রায় ১৬৭ জন। তারপর থেকে এখানে রাতযাপনকারী অনেকেই বলেছেন তারা রাতে ঘুমানোর পর দুঃস্বপ্ন দেখেন চারদিকে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছে আর শোনা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের আর্তচিৎকার।

বেলিগালি ক্যাসেল [আয়ারল্যান্ড]

উত্তর আয়ারল্যান্ডের আনট্রিম কাউন্টির অধীন বেলিগালি গ্রামে ১৬২৫ সালে নির্মিত হয় বেলিগালি ক্যাসেল, যা বর্তমানে হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি আয়ারল্যান্ডে ১৭০০ শতাব্দীতে তৈরি হওয়া একমাত্র ভবন, যা এখনো মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৬২৫ সালে জেমস শ নামে একজন স্কটিশ ব্যক্তি এই অঞ্চলে বসবাস করতে এসে তৎকালীন আর্ল অফ আনট্রিমের কাছ থেকে ২৪ পাউন্ডের বিনিময়ে একটি জমি ভাড়া নিয়ে বেলিগালি ক্যাসেল নির্মাণ করেন। ক্যাসেলটি সম্পূর্ণ স্কটিশ স্টাইলে নির্মিত। ১৯৫০ সালের পর হেস্টিংস হোটেলস গ্রুপ বেলিগালি ক্যাসেলের মালিকানায় একে হোটেলে রূপান্তর করে। হোটেলটি পরিচিতি পেয়েছে স্থানীয় মানুষের মাঝে প্রচলিত ভুতুড়ে কাহিনীগুলোর কারণে। মানুষের ধারণা, এই হোটেলে থাকতে এসে যারা মারা গেছেন, তাদের প্রায় সবারই আত্মা এই হোটেলে রাতের বেলায় ঘুরে বেড়ায়। লেডি ইসোবেল শ-এর কথা সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। লেডি ইসোবেলের একটা অদ্ভুত স্বভাব ছিল। সে প্রায়ই অন্য বাসিন্দাদের দরজায় টোকা দিয়ে পালাত। এ কারণে বিরক্ত হয়ে সবাই ইসোবেলের স্বামীর কাছে অভিযোগ জানায়। ইসোবেলের স্বামী রাগান্বিত হয়ে তাকে একটা কামরায় বন্দী করে রাখে। কিন্তু অভিমানী ইসোবেল তা মেনে নিতে পারেনি। সে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে তার আত্মা এই হোটেলেই স্থায়ী বসত গেড়ে আছে। এখনো হোটেলে রাতের বেলা দরজার গায়ে টোকার শব্দ পাওয়া যায়। কিন্তু দরজা খুলে দেখা যায় কেউ নেই!  ম্যাডাম নিক্সন নামে আরও একজন মহিলা এই হোটেলে মারা যান। হোটেলের অন্ধকার করিডরে এখনো তার সিল্কের ড্রেস পরে হেঁটে যাওয়ার খসখস আওয়াজ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার কারণে হোটেলের দক্ষিণ দিকের গম্বুজের নিজের ছোট রুমটিকে বলা হয় ‘দ্য ঘোস্ট রুম’।

ব্যানফ স্প্রিং [কানাডা]

কানাডার আলবার্টা রাজ্যের ব্যানফ ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত ব্যানফ স্প্রিং হচ্ছে কানাডার সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলগুলোর মধ্যে একটি। ব্যানফ স্প্রিং হোটেলের নির্মাণ পরিকল্পনা করেছিলেন আমেরিকান আর্কিটেক্ট ব্রুস প্রিন্স। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৮ সালের মধ্যে কানাডিয়ান প্যাসিফিক রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়। তবে ব্যানফ স্প্রিং হোটেলের আর একটি পরিচয় হচ্ছে কানাডার সবচেয়ে ভুতুড়ে স্থানগুলোর মধ্যে একটি। হোটেলটিকে ঘিরে নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার সাক্ষী আছেন অনেকেই। কথিত আছে, হোটেলটির সিঁড়িঘরে দুর্ঘটনায় একজন বিয়ের কনের মৃত্যুর কারণে এটি অভিশপ্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। মেয়েটি বিয়ের সাদা গাউন পরা অবস্থায় তার স্বামীর আগমন পথের সিঁড়িতে মোমবাতি জ্বালাচ্ছিল। হঠাৎ একটা মোমের আগুন লেগে যায় মেয়েটির গাউনে। সে আতঙ্কিত অবস্থায় সিঁড়িতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। তারপর থেকে বিয়ের গাউন পরা অবস্থায় তার আত্মাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় হোটেলের বিভিন স্থানে। হোটেলটিকে ঘিরে আরও একটি ঘটনা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হোটেলটির ৮৭৩ নম্বর রুমে বাস করত একটি পরিবার। কে বা কারা যেন একদিন এসে তাদের সবাইকে ওই রুমে খুন করে ফেলে রেখে যায়। পুলিশি তদন্তে কোনো ফলাফল হয়নি। তারপর থেকেই ওই রুমে অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটত। রাতে আসবাবপত্র টানাটানির আওয়াজ, ছোট বাচ্চার কান্না, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া! মানুষজন কেউ সেই রুমে বাস করার সাহস পেত না। তাই বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ দেয়াল তুলে এই কক্ষে ঢোকার পথ আটকে দিয়েছে, জানালাগুলোর কপাটও ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। হোটেলটিতে ভুতুড়ে কাজ কারবার চলছেই, যার ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি।

ক্যারোসটা [লাটভিয়া]

লাটভিয়ার লাইপেজা শহরে অবস্থিত ক্যারোসটা হোটেলকে অনেকেই ক্যারোসটা জেলখানা নামে চেনে। এর কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই হোটেলটিকে জার্মানির নািস বাহিনী কারাগার হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯০০ সালে এটি নির্মাণ করা হয় সাধারণ হাসপাতাল হিসেবে। পরবর্তীতে সোভিয়েত মিলিটারি ক্যারোসটাকে বন্দীশালা হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জেলখানাটির দখল নিয়ে নেয় হিটলারের অনুসারীরা। ওই সময় এখানে শতাধিক বন্দী মারা যায়, যাদের বেশির ভাগ গুলি করে মারা হয়েছিল। জীবিত বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। তাই জেলখানা থেকে বের হওয়ার ফটকের ওপর অনেক মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদি লাটভিয়ান ভাষায় লিখে গেছেন—‘নরক হতে মুক্তি’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই জেলখানা বেশ কিছুকাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে এটিকে একটি হোটেলে রূপ দেওয়া হয়। হোটেলটির ঐতিহাসিক ভ্যালুকে কাজে লাগিয়ে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এক অভিনব কায়দায় অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকে। হোটেলের কক্ষগুলোকে অনেকটা বন্দীশালার মতো করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে আছে লোহার খাট, ছোট্ট একটা ড্রেসার আর টয়লেট। যারা হোটেলে থাকতে আসে, তাদের সঙ্গে জেলখানার কয়েদিদের মতো আচরণ করা হয়। তবে ক্যারোসটা হোটেলের আরও একটি পরিচয় আছে। লোকজন মনে করে, হোটেলটি অভিশপ্ত, এখানে মৃত বন্দীদের আত্মা ঘুরে বেড়ায়। হোটেলের ভিজিটররা অনেকেই বলেছেন তারা রাতের বেলা করিডরে পা টেনে টেনে হাঁটার শব্দ, আচমকা চিৎকার, এমনকি বন্দুকের আওয়াজ পর্যন্ত শুনেছেন। হোটেলের স্টাফরা বলেন, এখানে প্রায়ই অকারণে বাল্ব নষ্ট হয়ে যাওয়া, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, শিকলে শিকলে বাড়ি খাওয়ার প্রচণ্ড শব্দ, আপনা আপনি বিভিন্ন সেলের দরজা খুলে যাওয়া ইত্যাদি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে থাকে।

উত্তর কাপুনডা [অস্ট্রেলিয়া]

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভীতিকর জায়গাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে উত্তর কাপুনডা হোটেল। হোটেলটি নির্মিত হয় ১৮৪৯ সালে নর্থ কাপুনডা আর্মস নামে। পরে ১৮৫৬ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নর্থ কাপুনডা হোটেল। তখন তামাখনিতে কাজ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে খনি শ্রমিকরা এসে কাপুনডা শহরে বসবাস করত। তাদের থাকা-খাওয়া ও বিনোদনের ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যেই কাপুনডা হোটেলটি নির্মাণ করা হয়। হোটেলটি গত এক শতাব্দীজুড়ে শহরের মানুষের প্রধান মিটিং পয়েন্ট হিসেবে খ্যাত। কাপুনডা শহরের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এর নাম। ১৮৫৯ সালে কাপুনডা শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। তৎকালীন পুলিশ সুপার মিস্টার কুয়েলি কাপুনডা হোটেলের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষের উদ্দেশ্যে বিশেষ দাঙ্গা আইন পড়ে শোনান। কথিত আছে, সে সময় খনি শ্রমিকরা হোটেলের নিচ দিয়ে বেশ কিছু টানেল নির্মাণ করেন যা স্থানীয় বিভিন্ন খনির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। টানেলে আটকা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু ও পতিতাদের ধরে এনে নির্যাতন করে মেরে ফেলাসহ এখানে আরও অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যায়। কোলাহলমুখর এই হোটেলটিতে একসময় শুরু হয় নানা ভুতুড়ে কর্মকাণ্ড, যার চাক্ষুষ সাক্ষী আছে অনেকেই। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই হোটেলে মৃত্যুবরণকারী সব অধিবাসীর ভূত এখনো বাস করছে এখানে। এদের মধ্যে আছে হোটেলের এক সময়কার মালিক, খনি শ্রমিক, রাজনীতিবিদ, রূপসী মেয়েসহ আরও অনেকে। টিভি সিরিজ হন্টিং অস্ট্রেলিয়া এর একটি এপিসোডে উত্তর কাপুনডা হোটেলের এসব উদ্ভট ব্যাপারগুলো নিয়ে তদন্ত করা হয়। তাদের তদন্ত থেকে জানা যায়, হোটেলের যত ভুতুড়ে ঘটনা তার সবই হোটেলের একটা অব্যবহৃত অংশে ঘটে থাকে।

স্কিরিড মাউন্টেইন [ওয়েলস]

ওয়েলসের মনমাউথশায়ার অঞ্চলের ল্যানফিহাঙ্গেল ক্রুকর্নি গ্রামে অবস্থিত স্কিরিড মাউন্টেইন হোটেল হচ্ছে ওয়েলসের সবচেয়ে পুরনো স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি। এ হোটেলটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় ৯০০ বছরের পুরনো ইতিহাস। ১১০০ সালের অ্যাংলো-স্যাক্সন ক্রনিকলেও যার উল্লেখ আছে। হোটেলটি কে বা কারা বানিয়েছিল সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে এটা জানা যায় যে, শুরুতে এটি ছিল শুধু একটি মদের দোকান। পরে খদ্দেরের আনাগোনা অনেক বেশি দেখে একে হোটেলে পরিণত করা হয়। তবে হোটেলের নিচের ফ্লোরটি কোটরুম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে সামান্য ভেড়া চুরির অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠিন শাস্তি দেওয়া হতো বলে জনশ্রুতি আছে। এই স্কিরিড মাউন্টেইন হোটেলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিপ্লবের ইতিহাস। ১৪০০ সালের দিকে ওয়েলসের অধিবাসীরা ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ হেনরির (ঐবহৎু ওঠ) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামে। বিদ্রোহ দমনের লক্ষ্যে প্রায় ১৮০ জন বিদ্রোহীকে বন্দী করে স্কিরিড মাউন্টেইন হোটেলে এনে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। এ হোটেলের যেসব কড়িকাঠে ফাঁসির দড়ি ঝুলানো হয়েছিল, সেসব জায়গায় এখনো দড়ির দাগ লক্ষ্য করা যায়। এরপর থেকে হোটেলটিকে ঘিরে নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার কথা শোনা যায়। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, স্কিরিড মাউন্টেইন হচ্ছে কয়েকটি ভূতের আবাসস্থল। এখানে রাতযাপনকারী অনেকেই নানা সময়ে ভয়ঙ্কর সব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তারা আচমকা হোটেলের বিভিন্ন কড়িকাঠে ফাঁসিতে ঝুলতে থাকা মানুষের লাশ দেখেছেন! অনেকে বলেন, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ অনুভূতি হয়— কেউ যেন অদৃশ্য দড়ি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরেছে। আইটিভির ‘এক্সট্রিম ঘোস্ট স্টোরিস’ নামের ডকুমেন্টারি টিভি সিরিজেও স্কিরিড মাউন্টেইনের অতিপ্রাকৃত ঘটনাবলি তুলে আনা হয়েছে।