লাটভিয়ার লাইপেজা শহরে অবস্থিত ক্যারোসটা হোটেলকে অনেকেই ক্যারোসটা জেলখানা নামে চেনে। এর কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই হোটেলটিকে জার্মানির নািস বাহিনী কারাগার হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯০০ সালে এটি নির্মাণ করা হয় সাধারণ হাসপাতাল হিসেবে। পরবর্তীতে সোভিয়েত মিলিটারি ক্যারোসটাকে বন্দীশালা হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জেলখানাটির দখল নিয়ে নেয় হিটলারের অনুসারীরা। ওই সময় এখানে শতাধিক বন্দী মারা যায়, যাদের বেশির ভাগ গুলি করে মারা হয়েছিল। জীবিত বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। তাই জেলখানা থেকে বের হওয়ার ফটকের ওপর অনেক মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদি লাটভিয়ান ভাষায় লিখে গেছেন—‘নরক হতে মুক্তি’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই জেলখানা বেশ কিছুকাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরবর্তী সময়ে এটিকে একটি হোটেলে রূপ দেওয়া হয়। হোটেলটির ঐতিহাসিক ভ্যালুকে কাজে লাগিয়ে কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এক অভিনব কায়দায় অতিথিদের আপ্যায়ন করে থাকে। হোটেলের কক্ষগুলোকে অনেকটা বন্দীশালার মতো করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে আছে লোহার খাট, ছোট্ট একটা ড্রেসার আর টয়লেট। যারা হোটেলে থাকতে আসে, তাদের সঙ্গে জেলখানার কয়েদিদের মতো আচরণ করা হয়। তবে ক্যারোসটা হোটেলের আরও একটি পরিচয় আছে। লোকজন মনে করে, হোটেলটি অভিশপ্ত, এখানে মৃত বন্দীদের আত্মা ঘুরে বেড়ায়। হোটেলের ভিজিটররা অনেকেই বলেছেন তারা রাতের বেলা করিডরে পা টেনে টেনে হাঁটার শব্দ, আচমকা চিৎকার, এমনকি বন্দুকের আওয়াজ পর্যন্ত শুনেছেন। হোটেলের স্টাফরা বলেন, এখানে প্রায়ই অকারণে বাল্ব নষ্ট হয়ে যাওয়া, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, শিকলে শিকলে বাড়ি খাওয়ার প্রচণ্ড শব্দ, আপনা আপনি বিভিন্ন সেলের দরজা খুলে যাওয়া ইত্যাদি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে থাকে।
