Type the name of a full movie

Get
Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts

প্লুটোয় পাহাড় ভাসছে!

পাহাড় কি ভাসতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার গবেষকেরা বলছেন, ভাসমান পর্বতমালা সত্যিই আছে। সেটি বামন গ্রহ প্লুটোয়। সেখানকার একটি স্থানে এমন ভাসমান পাহাড় দেখা গেছে। 
সম্প্রতি নাসার পাঠানো নিউ হরাইজনস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁরা দেখেছেন, শীতল বামন গ্রহটিতে একটি পাহাড় ভেসে বেড়াচ্ছে। নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ এই পাহাড়কে বয়ে বেড়াচ্ছে। গবেষকদের ভাষ্য, এই পাহাড়ের নাম স্পুটনিক প্ল্যানাম। কয়েক মাইল বিস্তৃত এই পাহাড়টি বরফে আবৃত। তথ্যসূত্র: নাসা

ওষুধ আয়ু বাড়িয়ে দেবে ১০ বছর!

যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক দাবি করেছেন, নতুন একটি ওষুধ মানুষের আয়ু প্রায় ১০ বছর বাড়িয়ে দিতে পারে। বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করার চেষ্টায় এ সাফল্যকে এক ধাপ অগ্রগতি বলা যায়। তবে এ ওষুধ মানুষের হাতে পৌঁছাতে আরও বহু বছর লাগবে।
গবেষণায় দেখা যায়, জিএসকে-থ্রি নামের প্রোটিন অণুগুলো মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে সংক্ষিপ্ত করে দেয়। আর সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারলেই জীবনকাল বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ফলের মাছির শরীরেও জিএসকে-থ্রি প্রোটিন থাকে। এদের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, লিথিয়াম প্রয়োগে ওই প্রোটিনের কার্যক্রম ব্যাহত করা যায়। আর এতে প্রাণীটির আয়ু ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল), ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজি অব অ্যাজিং এবং ইউরোপিয়ান মলিকিউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরির যৌথ এ গবেষণার সূত্র ধরে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, লিথিয়াম বা সমজাতীয় অন্য কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম হলে সেগুলো মানুষের আয়ু বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি ওই প্রোটিন অণু সম্পর্কে আরও বিশদ ধারণা অর্জন করতে পারলে প্রবীণদের বিভিন্ন অসুখ (যেমন আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার প্রভৃতি) নিরাময়ের চেষ্টায়ও সাফল্যের সুযোগ রয়েছে।
এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন সেল রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এটির প্রধান লেখক জর্জ ইভান ক্যাস্টিলো-কুয়ান বলেন, জিএসকে-থ্রি নিয়ে তাঁরা অনেক আশাবাদী। মধ্যবয়সে এটি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর চিকিৎসা শুরু করতে পারলে প্রবীণদের অনেক রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনকে দীর্ঘ করার সম্ভাবনা রয়েছে। জীবনকাল বৃদ্ধি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। সুস্থভাবে বাঁচতে না পারলে জীবনকে দীর্ঘায়িত করার সুফল মিলবে না। লিথিয়ামজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে আলঝেইমার রোগটি শুরু হওয়ার বয়স ৭৫ থেকে ৯০ বছরে নেওয়া গেলে অবশ্যই সেটা অনেক ভালো হবে।

দূরের তারায় ক্ষুদ্র অনুসন্ধানী মহাকাশ যান পাঠানোর প্রকল্পে হকিংয়ের সমর্থন


মহাকাশের গহিন থেকে আরও গহিনে কী আছে? এই জিজ্ঞাসা নতুন নয়। সেই আগ্রহ থেকেই মহাশূন্যে পাঠানো হচ্ছে একের পর এক মহাকাশ যান, চলছে বিস্তর গবেষণা। কেমন হতো যদি প্রজাপতির মতো আকৃতির শত শত মহাকাশ যান বেরিয়ে পড়ত কয়েক আলোকবর্ষ দূরে অনুসন্ধানের জন্য? নিঃসন্দেহে রোমাঞ্চকর এক ব্যাপার হতো সেটা! কিন্তু অনেকেই হয়তো বলবেন, এ শুধু কল্পনাতেই হতে পারে, জীবদ্দশায় দেখে যাওয়া সম্ভব নয়। তাদের জন্য একটা তথ্য—বিশ্বের সেরা মেধাবীরা এখন উঠেপড়ে লেগেছেন এই ধারণার বাস্তবায়নে। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং ও ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ তাঁদের অন্যতম।
আমাদের সবচেয়ে কাছের সৌরমণ্ডল ‘আলফা সেন্টুরি’-এ অনুসন্ধান চালানোর জন্য ১০ কোটি ডলারের ‘ন্যানোক্রাফট’ বানানোর এক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তাঁরা। ১৩ এপ্রিল রুশ উদ্যোক্তা ইউরি মিলনারের সঙ্গে যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হকিং বলেন, ‘আজ মহাজগতের দিকে আমরা আমাদের পরবর্তী মহাপদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। কারণ, আমরা মানুষ এবং উড়ে বেড়ানো আমাদের স্বভাব।’
‘ব্রেকথ্রু স্টারশট’ নামের মহাকাশ ভ্রমণের এই প্রকল্পের পরিচালনায় আছেন হকিং, মিলনার ও জাকারবার্গ। নাসার অ্যামস রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক পিট অরডেনকে প্রধান করে এই প্রকল্পে কাজ করছেন বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, মাত্র কয়েক গ্রাম ওজনের শত শত ক্ষুদ্রাকায় মহাকাশ যান তৈরি করা। এতে থাকবে ক্যামেরা, ফোটন থ্রাস্টারস, পাওয়ার সাপ্লাই, দিকনির্দেশক এবং যোগাযোগের যন্ত্র। একটি রকেটের মাধ্যমে একে আকাশে ছুড়ে দেওয়া হবে। তারপর পৃথিবী থেকে শক্তিশালী আলোকরশ্মি পাঠিয়ে এর বেগ ঘণ্টায় ১০ কোটি মাইলে রূপান্তর করা হবে। আলোর গতির পাঁচ ভাগের এক ভাগ গতিতে এটা চলবে এবং এখনকার যেকোনো মহাকাশ যানের চেয়ে বেশি।
ক্ষুদ্র মহাকাশ যানগুলোর গন্তব্য হবে আলফা সেন্টুরি, যেখান থেকে ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানো হবে। গবেষকেরা মনে করছেন, গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে ২০ বছরের মতো। তবে এই প্রকল্পের সাফল্যের জন্য এখনো অনেক প্রকৌশলগত বাধা মোকাবিলা করতে হবে বলে তাঁরা স্বীকার করেছেন। এর সঙ্গে অনেক অর্থ এবং সময়ের বিষয়ও যুক্ত।
মিলনারের মতে, এই প্রকল্পে সব মিলিয়ে এক হাজার কোটি ডলারের মতো খরচ হতে পারে। এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা চ্যালেঞ্জ হলেও আশা হারাচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।
মিলনার বলেন, ‘মানবজাতির গল্পটা এক মহাপদক্ষেপের সমাহার। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাশূন্যে গিয়েছিলেন। আজ তারকারাজির উদ্দেশে পরবর্তী মহাপদক্ষেপের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সূত্র: সিএনএন

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে সবুজ ধূমকেতু!

ধূমকেতুর নাম কমেট লিনিয়ার। রং সবুজ। এটি ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে যা দেখতে পাবেন উত্তর গোলার্ধের মানুষরা। আর ২ দিন পর সূর্যোদয়ের আগে খালি চোখে আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যাবে সবুজ রঙের এই মহাজাগতিক ‘রহস্য’কে। সাধারণভাবে ধূমকেতু দেখতে যতটা উজ্জ্বল, লিনিয়ার কমেট তার চাইতে অনেক গুণ বেশি উজ্জ্বল। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৩ লাখ মাইল দূর দিয়ে যাবে এই ধূমকেতু। আকাশের দক্ষিণদিকে দেখা যাবে এটাকে। তাই উত্তর গোলার্ধের সৌভাগ্যবান মানুষেরা দেরি না করে বায়নোকুলার রেডি করে রাখুন আর দেখুন সবুজ ধূমকেতুটিকে।


মঙ্গলগ্রহে প্রাণের রহস্য!


মঙ্গলগ্রহে প্রাণের রহস্য নিয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিচ্ছেন মহাকাশ-বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, ধূমকেতু আর গ্রহাণুর বিস্ফোরণই মঙ্গলে প্রাণের জন্ম দিয়েছিল। ক্রমাগত বিস্ফোরণ আর তাপবিকিরণে উত্তপ্ত হয়েই মঙ্গল প্রাণের অনুকূল একটি গ্রহে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলে যে প্রাণ ছিলই- সে বিষয়ে যত দিন যাচ্ছে, নিশ্চিত হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে লাল গ্রহে একসময়ে বহতা জলের ধারার অস্তিত্ব ছিল।  খোঁজ মিলেছে শুকিয়ে যাওয়া শতাব্দী-প্রাচীন নদীখাত, ব-দ্বীপ এবং নদীতটেরও! সেই সূত্র ধরেই বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার সিমুলাইজেশনের সাহায্যে খুঁজতে নেমেছিলেন মঙ্গল গ্রহের উষ্ণ এবং শীতল তাপপ্রবাহের গতিবিধি।  দেখা গেল, অসংখ্য ধূমকেতু আর গ্রহাণুর বিস্ফোরণে প্রাণের উপযোগী উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মঙ্গলের মাটিতে। তবে, সেটুকুর কথা বাদ দিলে বেশির ভাগ সময়টাই মঙ্গল কাটিয়েছে শীতল থেকে শীতলতর দশায়! একই অবস্থা হতে পারত পৃথিবীরও। হয়নি কেবল তার সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্তিত্বের জন্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ স্রোত ক্রমাগত বহমান হয়ে ধরে রেখেছে পৃথিবীর উষ্ণতা, ফলে পৃথিবীতে প্রাণ থেকে গিয়েছে, অভিমত বিজ্ঞানীদের।

ভূমিকম্পের আগাম খবর দেবে স্মার্টফোন

ভূমিকম্প শব্দটাই বুকে কম্পন তুলে দিতে যথেষ্ট। আর ভূমিকম্প পরবর্তী অবস্থা দেখে কাঁপে বিশ্ব মানবতা। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী এমন একটি অ্যাপের খবর দিচ্ছেন যা ভূমিকম্পের আগাম আঁচ বা সেনসর হিসেবে কাজ করবে। মাই সেক (MyShake) নামের এই অ্যাপটি ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ডয়েচ টেলিকম এজি-র গবেষকরা স্মার্টফোনের মোশন সেন্সরের মাধ্যমে তৈরি করেছেন। এই অ্যাপটির মাধ্যমে কম্পনের কিছু সেকেন্ড আগে ব্যাপকতা, মাত্রা এবং যাবতীয় তথ্য পৌঁছে যাবে অ্যাপটির ব্যবহারকারীদের কাছে। নেপাল, পেরুর মত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে এই অ্যাপে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। এইসব দেশে ভূমিকম্পের জন্য কোনো গ্রাউন্ড বেস সেসমিক নেটওয়ার্ক নেই কিন্তু লক্ষাধিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারী আছেন। গুগল প্লে স্টোর থেকে ফ্রি ডাউনলোড করা যাবে MyShake নামের এই অ্যাপটি।

নতুন ৫টি বৃহস্পতিসদৃশ গ্রহ আবিষ্কার

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা আমাদের সৌরজগতের বৃহ্ত্তম গ্রহ বৃহস্পতির মতো দেখতে নতুন ৫টি গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। গ্রহগুলো বৈশিষ্ট্যে অনেকটাই বৃহস্পতির মতো এবং এগুলো তাদের হোস্ট তারকার বেশ কাছাকাছি থেকে প্রদক্ষিণ করে। ফিজডটঅর্গ তাদের এক এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। খবর পিটিআই'র নতুন আবিস্কৃত ৫টি গ্রহের নাম দেয়া হয়েছে ডাব্লিউএএসপি-১১৯ বি, ডাব্লিউএএসপি-১২৪ বি, ডাব্লিউএএসপি-১২৬ বি, ডাব্লিউএএসপি-১২৯ বি, ডাব্লিউএএসপি-১৩৩ বি। ব্রিটেনের কীল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা নতুন এ ৫টি গ্রহ আবিস্কার করেছেন। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সার্চ ফর প্ল্যানেটস-সাউথ [ডাব্লিউএএসপি-সাউথ] যন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা গ্রহগুলো আবিষ্কার করেন। এটি হচ্ছে মূলত ৮টি ক্যামেরার একটি সিস্টেম যা দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় অাকাশের বাছাইকৃত অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হয়। 'আরজিভ' নামে একটি জার্নালে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

মহাকাশে 'মানব' রোবট পাঠাচ্ছে রাশিয়া


এবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএসে অত্যাধুনিক 'মানব' রোবট পাঠাচ্ছে রাশিয়া। এই রোবট নভোচারী দিয়ে বিপদজনক পরীক্ষা চালাবে দেশটি। মহাকাশে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এই রোবট। অবশ্য মানুষের নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের আওতায় থেকেও কাজ করবে এই রোবট।  ইতোমধ্যে দু’টি রোবট নভোচারীর সামরিক সংস্করণ পরীক্ষামূলভাবে বানিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। 'ফিওদোর' নামের রোবট নভোচারীর আদল অনেকটা মানুষের মতোই। রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়ন্ত্রণকারীকে বিশেষ পোশাক পরতে হয় এবং তিনি যে অঙ্গভঙ্গি করবেন তাই হুবহু নকল করবে সেটি। একজন সাধারণ নভোচারীর পক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টার বেশি মহাকাশে ঘুরে বেরানো সম্ভব নয়। কিন্তু রোবট নভোচারী ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াতে পারে।

দুই দিনে শিখলেন কোড, তারপর কোটিপতি!

শুনে মনে হতে পারে অবিশ্বাস্য কোনো গল্প। কিন্তু এ গল্পটি যখন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ বলেন, তখন তা বিশ্বাসযোগ্যই কিছু। কারণ এর সঙ্গে যুক্ত আছে ফেসবুকের শুরুর দিকের গল্প আর ডাস্টিন মস্কোভিজের দুই দিনে কোড শিখে কোটিপতি হওয়ার ইতিহাস।
মার্ক জাকারবার্গকে সহজে চিনলেও মস্কোভিজকে সহজে চেনার কথা নয়। তবে জাকারবার্গ স্বীকার করেছেন—ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এই মস্কোভিজ। তিনি ফেসবুক তৈরি ও প্রসারে জাকারবার্গকে সাহায্য করেছিলেন। মাত্র দুই দিনে পিএইচপির মতো প্রোগ্রামিং ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন তিনি, যা তাঁকে কোটিপতি বানিয়ে দেয়।
গল্পের শুরুটা ২০০৫ সালে। তখন মাত্র ৫০ জন কর্মীর একটি উদ্যোগ ছিল ফেসবুক। তখন জাকারবার্গ হার্ভার্ডে একটি বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় জাকারবার্গ তো আর তেমন নামকরা কেউ ছিলেন না! তাই কে শুনতে আসবে তাঁর বক্তৃতা! তবে জাকারবার্গের ওই বক্তৃতাটি কয়েক বছর আগে ইউটিউবে পোস্ট করা হয়, যেখানে জাকারবার্গ আর মস্কোভিজের এই গল্পের কথা বলা হয়েছে।
জাকারবার্গ বলেন, তাঁর রুমমেট ও সহপাঠী মস্কোভিজ ফেসবুক নিয়ে তাঁকে সাহায্যের জন্য উদগ্রীব ছিলেন। কিন্তু প্রোগ্রামিং বিষয়ে কিছুই জানতেন না। পিএইচপি শিখতে বলা হলেও ভুল করে শিখে ফেলেছিলেন পার্ল।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে ডরমিটরিতেই ফেসবুক তৈরি করেন জাকারবার্গ এবং দ্রুত সেটি জনপ্রিয় হয়। জাকারবার্গ বলেন, ‘আমি সাইটটি তৈরি করা শুরু করেছিলাম আগেই যা ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হার্ভার্ড উন্মুক্ত করা হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ এতে সাইন আপ করেন এবং অনেকের কাছ থেকে এটি চালুর জন্য ইমেইল পেতে শুরু করি।’
এ সময় ফেসবুকের প্রসার করার দরকার পড়লে মস্কোভিজ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন এবং বলেন, ‘তোমাকে সাহায্য করতে চাই, ফেসবুককে আরও প্রসারে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’
জাকারবার্গ তাঁকে পিএইচপি জানার কথা জিজ্ঞাসা করেন। যাঁরা প্রোগ্রামিং ভাষা ‘সি’ জানেন, তাঁদের জন্য পিএইচপি শেখা সহজ।
ওই সপ্তাহেই মস্কোভিজ বাড়ি চলে যান এবং ‘পার্ল ফর ডামিস’ নামের বই কেনেন। ফিরে এসে জাকারবার্গকে বলেন, ‘আমি তোমাকে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত।’ তবে জাকারবার্গ বলেন, ফেসবুক তো পিএইচপিতে লেখা, পার্লে নয়। এরপর মস্কোভিজ দুই দিনেই পিএইচপি শিখে ফেলেন এবং জাকারবার্গকে সাহায্য করেন। জাকারবার্গ ও মস্কোভিজ হার্ভার্ড ছেড়ে পুরো সময় ফেসবুকের পেছনে লেগে পড়েন। তবে ২০০৮ সালে ফেসবুক ছেড়ে দেন মস্কোভিজ। ফেসবুকে তাঁর যে শেয়ার থেকে যায় পরে তাতেই তিনি হয়ে ওঠেন তরুণ কোটিপতিদের একজন। পরে ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল বিলিওনিয়ারস’ বই ও ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ ছবির থিম হয়ে ওঠে জাকারবার্গ ও মস্কোভিজের সম্পর্ক।
তথ্যসূত্র: বিজনেস ইনসাইডার।

হ্যাকার নেবেন, হ্যাকার?

রোমানিয়াকে হ্যাকারদের স্বর্গরাজ্য বলা যায়। এখানে স্কুলেই শেখানো হয় সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি। দেশটিতে স্বশিক্ষিত হ্যাকারের কোনো অভাব নেই। কম খরচে রোমানিয়ার হ্যাকারদের দিয়ে কাজ করানো যায় বলে অনেকে এখন রোমানিয়ার হ্যাকারদের দিকে হাত বাড়াচ্ছেন। এই সুযোগে রোমানিয়া হয়ে উঠেছে সাইবার জগতের ‘হটস্পট’। 
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ ব্যক্তিদের চাহিদা বাড়ছে। কম খরচ আর প্রযুক্তি দক্ষতার কারণে হ্যাকারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে রোমানিয়া। অথচ এক সময় দেশটির দুই তৃতীয়াংশ সফটওয়্যার ছিল অবৈধ। 
রোমানিয়ার প্রযুক্তি দক্ষ ব্যক্তিরা পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বেশি বেতনের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক কাজগুলো। 
তিন মাস আগে গেম নির্মাতা গ্যাব্রিয়েল কারলিগ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার জন্য তার পেশা পরিবর্তন করেছেন। তাঁর আগে পাঁচ বছর গেম তৈরিতে কাজ করেছেন তিনি। এখন পেশা বদলে সাইবার নিরাপত্তার কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকোর তথ্য অনুযায়ী, রোমানিয়াতে গেম সংক্রান্ত চাকরির সুযোগ কমছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ কর্মীর চাহিদা হু হু করে বাড়ছে। 
গ্যাব্রিয়েল কারলিগ বলেন, এখন পরিবর্তনের যুগ। একজন পেশাদার হিসেবে প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করে তোলায় এখানে টিকে থাকার একমাত্র উপায়। 
গ্যাব্রিয়েলের মতো রোমানিয়ার অনেকেই এখন এ পেশায় আসছে। 
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিমানটেকের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ব্রাউনের মতে, ২০১৯ সাল নাগাদ সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দক্ষ লোকের ঘাটতি ১৫ লাখে পৌঁছাবে। 
বিটডিফেন্ডার, অ্যাভিরা, হেইমডালের মতো প্রতিষ্ঠান এ বছরেই রোমনিয়াতে তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে তারা কয়েকশরও বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। কারণ, দেশটিতে পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় খুব কম খরচেই সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ কর্মী সহজে পাওয়া যায়। ব্রেইনস্পটিং নামের একটি কর্মী নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে জুনিয়র স্তরের প্রকৌশলীরা ৫৮০ ডলারের মতো বেতন পান। মধ্য স্তরের বিশেষজ্ঞদের বেতন এক হাজার ৫০০ ডলার থেকে দুই হাজার ৫০০ ডলার আর জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কোনো সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বেতন পাতন তিন হাজার ৫০০ ডলারের মতো। 
ব্রেইনস্পটিংয়ের পরামর্শক মারিয়া হসটিউক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ খুঁজলেও তাঁরা ওয়েবে চাকরির বিজ্ঞাপন দেন না। বেশিরভাগ চাকরি হয় সুপারিশে।’ 
রোমানিয়ার অধিকাংশ সাইবার নিরাপত্তা প্রকৌশলীরা স্বশিক্ষিত। স্কুলে তাঁরা যে কম্পিউটার সায়েন্সের জ্ঞান অর্জন করেন তা কাজে লাগিয়েই এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন তাঁরা। গেম নির্মাতা গ্যাব্রিয়েল বলেন, যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন তখন শখের বসে এ বিষয়টি শিখেছিলেন। এ ছাড়া হ্যাকারদের বিভিন্ন পুরোনো গল্প এখানকার হ্যাকারদের এ বিষয়ে ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। 
যাঁরা এ বিষয়ে শিখতে আগ্রহী তাঁদের জন্য ‘সাইব্রারি’ নামের একটি বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স দারুণ কাজে লাগবে। সাইব্রারির সহ-প্রতিষ্ঠাতা রায়ান কোরে বলেন, রোমানিয়ানদের বেসিক বা মূল বিষয়গুলো আগে থেকেই জানা থাকে। অধিকাংশ এই প্ল্যাটফর্মটি নিরাপত্তা দক্ষতার জ্ঞান আরও বাড়াতে ব্যবহার করে। 
কোরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রাথমিক স্তরের কোর্সগুলো বেশি জনপ্রিয়। এ ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক প্লাস, সিসিএনএ, লিনাক্স প্লাসে বেশি আগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু রোমানিয়ায় উচ্চতর কোর্সগুলোতে মানুষের বেশি আগ্রহ দেখা যায়। এর মধ্যে আছে ম্যালওয়্যার অ্যানালাইসিস, অ্যাডভান্সড পেনিট্রেশন টেস্টিং প্রভৃতি। 
২০১৫ সালের শেষ তিন মাসে সাইব্রারির চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাইবার নিরাপত্তায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের প্রযুক্তি কর্মকর্তাদের। সমীক্ষায় ৪৩৫ জন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করে সাইব্রারি। তাদের ৮০ শতাংশ সাইবার নিরাপত্তায় লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যার কথা বলেন। এর কারণ হিসেবে ৪০ শতাংশ বলেন, দক্ষতার অভাব, ১৮ শতাংশ বলেন বিশেষজ্ঞদের আকর্ষণ করার মতো রসদের অভাব আর ১৪ শতাংশ বলেন, কর্মীদের অবস্থানের কারণে নিয়োগে সমস্যা হয়। 
রোমানিয়ার বৃহত্তম সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিটডিফেন্ডার। প্রতিষ্ঠানটিতে বিশ্বজুড়ে ৯০০ জনের বেশি কর্মী আছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়নের অধিকাংশ কর্মী স্থানীয়। 
বিটডিফেন্ডারের নিয়োগ কর্মকর্তা এলভিস পপোভিসি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নিয়োগে এক থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়। এতে সাক্ষাৎকার কারিগরি পরীক্ষার বিষয় থাকে। এ ক্ষেত্রে নতুন লোক নিয়োগের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 
রোমানিয়ায় কাজ করছে আরেক অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাভিরা। রোমানিয়ায় ১০০ জনের বেশি কর্মী আছে অ্যাভিরার। প্রতিষ্ঠানটির মানব সম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক এলেনা নাসতাসা বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ প্রোগ্রামার হিসেবে ডেস্কটপ ও মোবাইলের নিরাপত্তা অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে কাজ করে। এ ছাড়া ম্যালওয়্যারের নমুনা পরীক্ষার কর্মীও আছে।’ 
এলেনা বলেন, রোমানিয়ায় এখন অনেকে নতুন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করছে বলে লোক নিয়োগ দেওয়া কঠিন। কারণ, তরুণদের নিয়োগ দিয়ে তারা এখানেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তথ্যসূত্র: জেডডিনেট

২০ মিনিটেই ব্যাংক হ্যাক করা সম্ভব!

মাত্র ২০ মিনিটেই একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হ্যাক করে ফেলা সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব সহজেই তা করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কোলফায়ারের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা পরামর্শক রায়ান ম্যাকডুগাল একটি বড় ব্যাংক খুব সহজে উপায়ে হ্যাকিং করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। ১০ মার্চ টেকউইকইউরোপ ওয়েবসাইটে লেখক ডুয়ান ম্যাকরে বিষয়টি তুলে এনেছেন।
এটা বাস্তব কোনো ঘটনা নয়, হ্যাকিংয়ের অনুমানভিত্তিক এই বর্ণনা দিয়েছেন ম্যাকডুগাল। তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন সকাল নয়টা ৪০ মিনিটের দিকে ব্যাংকটির করপোরেট কার্যালয়ের ১০২ নম্বর স্যুটে আমি যাই। সেখানে যাওয়ার জন্য আমি স্থানীয় একজন দরকারি কর্মীর ছদ্মবেশ ধরি। হ্যাট, ক্লিপবোর্ড, হলুদ জামা, জুতো পর্যন্ত। আমাকে দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না।’
ব্যাংকে ঢোকার পথ
ব্যাংকে ঢোকার বর্ণনা দিতে গিয়ে ম্যাকডুগাল বলেন, যখন স্যুটটির দিকে এগোলাম, দেখি বিশাল কাচের তৈরি প্রবেশ দরজার ওপাশে মূল অফিস। সেখানে ঢুকতে দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্ন করা হচ্ছে। আরও দেখলাম ব্যাংকের কর্মীরা হলওয়ের শেষ মাথায় একটি চিহ্নবিহীন দরজা দিয়ে আসা-যাওয়া করছে। সেখানে কোনো নিরাপত্তা ক্যামেরা দেখা যাচ্ছে না। আমি মূল দরজা দিকে ধীরে ধীরে এগোলাম। একজন সন্দেহাতীত ব্যক্তির পেছন পেছন দরজা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ঢুকে পড়লাম। দরজা দিয়ে ঢুকে আমি স্বাভাবিকভাবে কিছুটা হেঁটে সুযোগ খুঁজতে লাগলাম। অফিসের সমস্ত ডেস্ক ভরা ছিল। সেখানে অনেকের সঙ্গে চোখাচোখি হল, কিন্তু কেউ কোনো প্রশ্ন করেনি। একটি ফাঁকা কক্ষ দেখলাম। এরপর সেখানে ঢুকে পড়ে সেখানকার ডেস্কের নিচে ছোট্ট একটি ডিভাইস বসিয়ে দিলাম। এই ছোট্ট ডিভাইসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি ভিপিএন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে। এরপর ওই স্যুট ছেড়ে হোটেলে ফিরে সংযোগের জন্য পরীক্ষা। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে মাত্র ১০ মিনিট লেগেছে।
ব্যাংক হ্যাক করার পরবর্তী ধাপ নিয়ে ম্যাকডুগাল বলেন, হোটেলে পৌঁছে সংযোগ পেয়ে গেলাম এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধাও পেলাম। কয়েক মিনিট পরে অথেনটিকেশন হ্যাস পেয়ে গেলাম। ব্যাংকের অন্যান্য কর্মচারীর মতো সেখান অভ্যন্তরীণ অ্যাকসেস ও নেটওয়ার্কে ঢোকার পথ করে ফেললাম। নেটওয়ার্কে বেশ কিছু পরিবর্তন করার পর ডোমেইন অ্যাডমিনের তথ্য পাওয়া সময়ের ব্যাপার ছিল। এরপর ব্যাংকের করপোরেট নেটওয়ার্ক আমার হাতে চলে এল।
ম্যাকডুগাল ব্যাংক হ্যাকের আরেকটি পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেন, ওপরের পদ্ধতিতে যদি কাজ না হয়, কাছেই ব্যাংকের আরেকটি শাখা ছিল। সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলাম। ছদ্মবেশে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাংকের ওই শাখায় গেলাম খাবার সরবরাহকারীর ছদ্মবেশে। খাবারের দাম আগেই শোধ করা ছিল, আমি শুধু সেখানে রাখার অজুহাতে গিয়েছিলাম। শুরুতে ব্যাংকে ঢোকার আগে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে যে আলাপ হল তাতে ভেতরে যাওয়া আটকাল না। দারুণ কর্মী তারা। আমি তাদের কাছে অফিসের শৌচাগার ব্যবহারের অনুমতি চাইলাম। শৌচাগারের আশপাশে আমি একটি ইউএসবি বা পেনড্রাইভ ফেলে এলাম। এটা সাধারণ কোনো ইউএসবি ড্রাইভ ছিল না। এতে ক্লিক করতে কৌতূহল জাগায় এমন ফাইল ছিল। অর্থাৎ এতে, রিভার্স সেল ম্যাকো সক্রিয় করা এক্সেল ডকুমেন্টের একটি ফাইল ছিল যার শিরোনাম ছিল ‘এমপ্লয়ি বোনাস প্ল্যান ডটএক্সএলএসএম’।
ওই অফিসে শেষ পর্যন্ত কাউকে খাবার পৌঁছে দিতে পারলাম না। তার আগেই বাধা এল। ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কথা বলতে দেখলাম। আমি তাড়াতাড়ি খাবারসহ বের হয়ে এলাম। আমি পুলিশকে অভিবাদন জানালাম। মনে আশা রাখলাম, কেউ যদি ওই ইউএসবি ড্রাইভটি তুলে নিয়ে কোনো ফাইল খোলে। এতে আমার ওই অফিসে যেতে আসতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লেগেছে।
অফিসে ফিরে এসে ওই খাবার থেকে স্যান্ডউইচে কামড় বসাতে না বসাতেই মুখে হাসিতে ভরে গেল। আমি দেখলাম ওই এক্সেল ফাইল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংকেত আসতে শুরু করেছে এবং ওই কম্পিউটারের দখল আমার হাতে চলে এসেছে।
ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে দখল নেওয়ার পর কিছু কম্পিউটার রিবুটের মাধ্যমে ওই সফটওয়্যারটিকে সব সময়ের জন্য চালু রাখা সম্ভব হয়ে গেল। ব্যাংকের ওই শাখায় অভ্যন্তরীণ সব অ্যাকসেস আমার হাতে চলে এল। এমনকি ওই অফিসের সাধারণ একজন কর্মীর মতোই নেটওয়ার্কে ঢোকার জন্য যে ভেরিফাইড ডোমেইনের তথ্য লাগে সব হাতে চলে এল।
আগেই করপোরেট অফিসের নেটওয়ার্ক হাতে থাকায় এবার শাখা অফিসের নেটওয়ার্কও যখন আমার হাতে, আর কি চাই। কারও লোন লাগবে? খুব কম সুদে!

অনলাইন কোর্স করে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার সুযোগ

দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে গতানুগতিক ক্লাসরুমের বাইরে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সম্প্রতি অনলাইনে ক্লাস ও ভিডিও কোর্স চালু করেছে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণদাতা প্রতিষ্ঠান কোডারসট্রাস্ট। প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে প্রায় দুই বছর ধরে কাজ করছে কোডারসট্রাস্ট। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০০ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করেছে।

কোডারসট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাইলেই এখন যে কেউ বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোডারসট্রাস্টের অনলাইন কোর্সগুলো করে নিতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির ভারচুয়াল ক্লাসগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে অনলাইনে ক্লাস করলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমের মতোই মজাই পাবেন এখানে। অনলাইনে কোডারসট্রাস্টের যেকোনো প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামূলকভাবে বিনা মূল্যে নির্দিষ্ট সেই কোর্সটিও করে নিতে পারবেন।

কোডারসট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ফার্দিনান্দ বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের যেহেতু অনলাইনে কাজ করতে হয়। তাই তাঁরা যদি তাঁদের প্রশিক্ষণটাও অনলাইনে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি হবে তাঁদের জন্য অনেক লাভজনক। অনলাইনে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়েই তাঁরা তাঁদের কাজের ধরনটা বুঝতে পারবেন এবং এটি তাঁদের দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হতে সাহায্য করবে।

কোডারসট্রাস্টের হেড অব অপারেশন শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য, যাঁরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাঁদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করা। বর্তমানে আমরা কড়াইল বস্তিতে বিনা 
মূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আমাদের এ বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়বে।’

উল্লেখ্য, কোডারসট্রাস্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের অনলাইন কাজ বিক্রি করতে পারেন এবং এখান থেকে শিখতেও পারবেন। এ জন্য খরচ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে কাজের সুযোগও তৈরি করে দেয়। যখন কোডারসট্রাস্ট ব্যবহারকারী আয় করবেন, তখন ওই ঋণ শোধ করতে পারবেন। কোডারট্রাস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার লিংক (www.coderstrust.com)

নাসার মঙ্গলযাত্রা

২০১৫ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র দ্য মার্শিয়ান-এ দেখা যায়, মঙ্গল গ্রহে আটকে পড়া এক মহাকাশচারীকে বীরের মতো উদ্ধার করছে নাসা। মিশনের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে তেমন সহায়তা না পেয়ে ওই মহাকাশচারীকে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিপুল বুদ্ধির স্বাক্ষর রাখতে হয়েছিল। রিডলি স্কটের পরিচালনায় বানানো ছবিটি দৃষ্টিনন্দন, একটা টানটান বিনোদন উপহার দেয় সেটা। তবে অনেকের চিন্তার একত্র সমাবেশ ঘটাতে পারলে মানুষের পক্ষে কত দূর কী অর্জন করা সম্ভব, সেটাও তুলে ধরেছে এ ছবি। স্ট্যানলি কুব্রিকের ১৯৬৮ সালের মাস্টারপিস ২০০১: আ স্পেস অডিসি-এর মতো এটিও ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের চেহারাটা কেমন দাঁড়াবে, তার একটা ঝলক উপহার দেয়।
চলচ্চিত্রটি তৈরি হওয়ার সময় কিছু কারিগরি পথনির্দেশ দিয়েছে নাসা। অত্যাধুনিক মহাকাশ-পোশাক থেকে শুরু করে মহাকাশে খাদ্য উৎপাদনের পদ্ধতি পর্যন্ত এমন কিছু প্রযুক্তি অনেক দৃশ্যে তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমরা আসলেই এখন কাজ করছি। ভবিষ্যতে কোনো দিন সত্যিকার মঙ্গল অভিযানেও এই প্রযুক্তিগুলোই ব্যবহৃত হতে পারে।
২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঠিক করেছে নাসা। ‘নাসার মঙ্গলযাত্রা: মহাকাশ অভিযানের পরবর্তী পথিকৃৎ পদক্ষেপ’ শিরোনামে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আমরা একটা রূপরেখা দিয়েছি, যাতে বলা হয়েছে ওখানে যাওয়ার পথে মানবজাতির করণীয় কী কী। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অব্যাহত গবেষণা, এবং তারপর নিম্ন পার্থিব কক্ষপথ থেকে মানুষকে সেই অঞ্চলটিতে নেওয়া, যেটাকে আমরা বলি ‘পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্র’—এটা চাঁদের নিকটবর্তী মহাকাশ অঞ্চল। এটা করতে পারলে আমরা আমাদের সামর্থ্যের সীমারেখাকে এমন একটা অঞ্চল পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে পারব, যেখান থেকে মহাকাশচারীরা অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন।
দ্য মার্শিয়ান চলচ্চিত্র একটা জায়গায় ভুল করেছে। ওখানে যেমনটা দেখানো হয়েছে, মঙ্গল গ্রহে মনুষ্য অভিযান কিন্তু সে রকম নাসার প্রাধান্যবিশিষ্ট একটা উদ্যোগ হবে না, যেমনটা ঘটেছে চাঁদের পিঠে নাসার সত্যিকার অভিযানের বেলায়। বরং মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতিতে সারা পৃথিবীর মানুষ আর সম্পদ ভূমিকা রাখবে এবং অভিযাত্রাটি অন্যান্য দেশের মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে অংশীদারি ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, ব্যক্তি খাতেরও সহায়তা নেওয়া হবে।
মহাকাশ ও সৌরজগৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের চৌহদ্দি বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে সারা বিশ্বের সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ এবং সেটা পরিচালনার পেছনে ১৫টি দেশের হাজার হাজার লোক নিযুক্ত। সৌরজগতে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি মহাকাশে দীর্ঘকাল অবস্থানের সময় কী করে মানুষকে সুস্থ রাখা যাবে, তার হাড়ের ঘনত্ব ক্ষয়ে যাওয়া আর পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া কী করে কমানো যাবে—এসব বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যৌথভাবে অজস্র মহাকাশযান পাঠিয়ে রোবোটিকভাবে মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে নাসা। নাসার মার্স সায়েন্স ল্যাবরেটরি কিউরিওসিটি রোভারে নানা রকম যন্ত্রপাতি জোগান দিয়েছে পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে স্পেনের সেন্ত্রো দি আস্ত্রোবায়োলজিয়ার নির্মাণ করা একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ স্টেশনও আছে। এসব প্রচেষ্টার বরাতে মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া যাবে, যা সেখানে মানুষের সশরীরে পদার্পণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাবে। তা ছাড়া সেখানে ভবিষ্যৎ অভিযানে কী কী সম্পদ পাওয়া যাবে না যাবে, সে সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া যাবে। নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানের জন্য ইউরোপিয়ান মহাকাশ সংস্থা একটা সার্ভিস মডিউল বানিয়ে দিচ্ছে। এই ওরিয়ন মহাকাশযান অ্যাপোলো কর্মসূচির পর প্রথমবারের মতো চাঁদের ওপারে মহাকাশচারী বহন করে নিয়ে যাবে।
ব্যক্তি খাতের কোম্পানিগুলোও তাদের পক্ষে যা করা সম্ভব করছে। নাসার বাণিজ্যিক পরিবহন কর্মসূচির আওতায় এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রসদ বয়ে নিয়ে গেছে স্পেসএক্স এবং অরবিটাল এটিকে। এ ছাড়া ২০১৮ সাল থেকে মহাকাশচারী বয়ে নিয়ে যাওয়া শুরুর পরিকল্পনা করছে বোয়িং ও স্পেসএক্স। মহাকাশ স্টেশনে ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির নতুন নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা চালাচ্ছি আমরা, যেমন ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার, যা মহাকাশযাত্রাকে আরও টেকসই করে তুলবে।
শুধু নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর জন্যই যে আমরা মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি এমন নয়। আমরা এটা করছি, কারণ ওই গ্রহ সম্পর্কে আমরা যা কিছু জানব, তা পৃথিবীর বুকে প্রাণ সম্পর্কেই আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করবে।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সাক্ষ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে মঙ্গল গ্রহই সবচেয়ে সম্ভাব্য স্থান। প্রাণের জন্য সবচেয়ে জরুরি শর্ত যে পানি, সেটা মঙ্গল গ্রহে প্রায় ১০০ কোটি বছর ধরে স্থিতিশীল দশায় ছিল। পৃথিবীতে বিবর্তন সম্পর্কে আমরা যেটুকু জানি, তার ভিত্তিতে বলা যায়, মঙ্গল গ্রহেও প্রাণের উন্মেষ ঘটে থাকতে পারে।
যা-ই হোক, মঙ্গল গ্রহে প্রাণের উদ্ভব যদি ঘটেও থাকে, সেটা যেহেতু অণুজীব স্তরের বেশি বিবর্তিত হতে পারেনি, কাজেই প্রাণের সাক্ষ্য অনুসন্ধানের জন্য আমাদের সেখানে মহাকাশজীববিজ্ঞানী আর ভূ-প্রকৃতিবিজ্ঞানী পাঠাতে হতে পারে। ওই গ্রহের পৃষ্ঠদেশে তরল পানির অস্তিত্বের সাম্প্রতিক সাক্ষ্যের পর বিজ্ঞানীরা এখন এই সম্ভাবনাও ভেবে দেখছেন যে ওপরের পৃষ্ঠদেশের পরিস্থিতি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাওয়ার ফলে মঙ্গল গ্রহে মাটির অভ্যন্তরে ঠাঁই নিয়ে প্রাণ এখনো নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে কি না।
অবিমিশ্র বৈজ্ঞানিক বিষয়ের বাইরে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার অন্য কিছু কারণও আছে। ওখানে মানুষ পাঠানো এমন এক চ্যালেঞ্জ, যেটা নতুন নতুন উদ্ভাবনকে উসকে দেবে, নতুন প্রযুক্তি আর সক্ষমতার উদ্ভব ঘটবে। হিসাব কষে দেখা গেছে, নাসার পেছনে ব্যয় করা প্রত্যেক ডলার আমেরিকার অর্থনীতিতে চার ডলার যোগ করে। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি একদা বলেছিলেন, আমরা মানুষকে চাঁদে পাঠাচ্ছি শুধু এ জন্য না যে, ‘এটা সহজ, বরং এ জন্য যে এটা কঠিন, কেননা এই লক্ষ্য আমাদের বল আর দক্ষতাকে পুনর্গঠন করতে আর পরিমাপ করতে সহায়তা করে।’
এসব প্রচেষ্টা পৃথিবীতে মানুষের সত্যিকার উপকারে লাগে। মহাকাশের জন্য উদ্ভাবন করা সাম্প্রতিক অনেক প্রযুক্তিই পৃথিবীতে ব্যবহারিক কাজে লাগানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জন্য বানানো পানি বিশুদ্ধকরণব্যবস্থা পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সাহায্য করছে। নাসার নতুন মহাকাশ উৎক্ষেপণব্যবস্থা আর ওরিয়ন ক্যাপসুল দ্রুতগতিতে ব্যাটারি চার্জ করার প্রযুক্তি সম্ভব করেছে। তা ছাড়া এগুলোর বরাতে আমরা আরও অগ্রসর নির্মাণ প্রযুক্তি আর হালকা উড়োজাহাজ কাঠামো পেয়েছি।
দ্য মার্শিয়ান ছবিতে অদম্য মহাকাশচারী মার্ক ওয়াটনি যেভাবে মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়েছেন, নাসাও ও রকম এক নতুন উচ্চতায় ওঠা এবং লোহিত গ্রহের রহস্য উদ্ঘাটনে একটি আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অব্যাহতভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর তা করতে গিয়ে আমরা সায়েন্স ফিকশনকে সায়েন্স ফ্যাক্টে পরিণত করব।
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে অনূদিত
এলেন আর স্টোফান: নাসার প্রধান বিজ্ঞানী

কেমন হচ্ছে অ্যাপলের নতুন অফিস?

এগিয়ে চলেছে আপ্যলের অফিসের নির্মাণকাজ


এই ক্যাম্পাসে অ্যাপলের নতুন করপোরেট অফিস এবং পণ্য প্রদর্শনের শোরুম থাকবে। সম্প্রতি অ্যাপল এই ক্যাম্পাসের ছবি প্রকাশ করেছে। বড় বড় বাঁকানো কাচের প্যানেল দিয়ে তৈরি অ্যাপলের এই মূল ভবনটি দেখতে অনেকটা ইউএফও (আন-আইডেন্টিফাইড ফ্লায়িং অবজেক্ট) বা উড়ন্ত চাকতির মতো। এরই মধ্যে এর কাজ প্রায় ৩৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। গোটা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা এই বছরের শেষের দিকে। উদ্বোধন হবে আগামী বছর।
কার্বন তন্তু দিয়ে তৈরি ছাদ

অ্যাপলের বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরের এই ক্যাম্পাস ২ নির্মাণে অ্যাপল ততটাই মনোযোগ দিয়েছে, যতটা অ্যাপল প্রতিটি পণ্য তৈরিতে দিয়ে থাকে। প্রায় ৫০০ বাঁকানো কাচের পাত সরানো এবং জায়গামতো বসানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বড় বড় যন্ত্র—ম্যানিপুলেটরস। এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে ১৯টি দেশের নকশাকার প্রতিষ্ঠান, কাঁচামাল সরবরাহকারী এবং অন্যান্য বিক্রেতার সঙ্গে কাজ করছে অ্যাপল।
১৩ হাজার কর্মীকে একসঙ্গে জায়গা দিতে পারবে অ্যাপলের নতুন মূল ভবনটি। যতটুকু জানা গেছে, ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটের ভূগর্ভস্থ মিলনায়তনে হাজার খানেক আসন ধারণক্ষমতা রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ‘ফোস্টার অ্যান্ড পার্টনার’-এর নকশায় নির্মিত এই সিলিন্ডার আকৃতির ভূগর্ভস্থ মিলনায়তনটি ভূমির ওপর থেকেই দেখা যায়। এতে কোনো 

অন্দর মহল

কলাম নেই। কলামের বদলে জায়গাটি খালি রাখা হয়েছে এবং এটি কাচ দিয়ে ঢাকা। আছে নিচের ইভেন্ট হলে নামার জন্য সিঁড়িও। তবে থিয়েটারের সুন্দর ছাদটিই খুব সম্ভবত এর আসল আকর্ষণ। অ্যাপল বিশ্বাস করে, এটাই এযাবৎকালের তৈরি সবচেয়ে বড় ছাদ, যা কার্বন তন্তু দিয়ে তৈরি। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার কম্পোজিট টেকনোলোজি এটি তৈরি করেছে।
বৃত্তাকার ছাদটি গড়ে ৭০ ফুট লম্বা এবং ১১ ফুট চওড়া ৪৪টি রেডিয়াল প্যানেলের সমন্বয়ে গঠিত। এর ওজন ৮০ টন। এই ছাদের ওপর থেকে অ্যাপলের নতুন ক্যাম্পাসের চারদিক দেখা যায়। নতুন ক্যাম্পাসের মূল ভবনটির আয়তন ২৮ লাখ বর্গফুট। এটি হবে চারতলাবিশিষ্ট এবং মাটির নিচেও তিনটি তলা থাকবে।

-ম্যাশেবল অবলম্বনে 

দুই পৃথিবী মিলে এক পৃথিবী

আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী কীভাবে তৈরি? বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুই পৃথিবী মিলে তৈরি আমাদের এই পৃথিবী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দাবি করেছেন, নবীন পৃথিবী আর উন্নয়নশীল আরেক গ্রহ থিয়ার মধ্যে প্রচণ্ড ও মুখোমুখি সংঘর্ষে আমাদের এই আজকের পৃথিবীর জন্ম হয়েছিল। একই কারণে সৃষ্টি হয় পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ। ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা-বিষয়ক নিবন্ধে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
গবেষকদের দাবি, থিয়া নামের ওই গ্রহের ভ্রূণের আকার ছিল প্রায় পৃথিবী বা মঙ্গল গ্রহের সমান; যা ৪৫০ কোটি বছর আগে এই সংঘর্ষের ফলে দুটি গ্রহ পরস্পর গলে-মিশে গিয়েছিল। এই সংঘর্ষ-ঘটনার ১০ কোটি বছর পর আজকের পৃথিবীর রূপ লাভ করতে থাকে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা অ্যাপোলো ১২, ১৫ ও ১৭ মিশন থেকে আনা চাঁদের পাথর ও পৃথিবী পৃষ্ঠে হাওয়াই ও অ্যারিজোনার আগ্নেয় শিলা নিয়ে পরীক্ষা চালান।
গবেষকদের দাবি, চাঁদের পাথর ও পৃথিবীর পাথরের মধ্যে অক্সিজেন আইসোটোপ প্রায় একই রকম।
গবেষণা নিবন্ধে গবেষক এডওয়ার্ড ইয়াং বলেন, ‘থিয়া পৃথিবী ও চাঁদের সঙ্গে মিশে বিক্ষিপ্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে থিয়ার বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে না। যদি নবীন ওই গ্রহটি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষে না জড়াত, তবে হয়তো আরেকটি গ্রহ তৈরি হতো।

প্লুটোয় পাহাড় ভাসছে!

পাহাড় কি ভাসতে পারে? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নাসার গবেষকেরা বলছেন, ভাসমান পর্বতমালা সত্যিই আছে। সেটি বামন গ্রহ প্লুটোয়। সেখানকার একটি স্থানে এমন ভাসমান পাহাড় দেখা গেছে। 
সম্প্রতি নাসার পাঠানো নিউ হরাইজনস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁরা দেখেছেন, শীতল বামন গ্রহটিতে একটি পাহাড় ভেসে বেড়াচ্ছে। নাইট্রোজেন বরফের হিমবাহ এই পাহাড়কে বয়ে বেড়াচ্ছে। গবেষকদের ভাষ্য, এই পাহাড়ের নাম স্পুটনিক প্ল্যানাম। কয়েক মাইল বিস্তৃত এই পাহাড়টি বরফে আবৃত। তথ্যসূত্র: নাসা

চাঁদে গড়ে উঠবে গ্রাম

চাঁদের জমিতে গড়ে উঠবে গ্রাম। ২০৩০ সালে কল্পনার সেই গ্রাম চাঁদের বুকে গড়ে উঠতে পারে। নভোচারী আর রোবটিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে চাঁদের বুকে স্থাপনা তৈরি করে সেখানে মানব বসতি তৈরির পূর্বাভাস দিচ্ছেন একদল গবেষক।

মঙ্গল বা অন্য কোনো গ্রহে যেতে মানুষ চাঁদের এই গ্রামে বা কলোনিতে গিয়ে প্রাথমিক আশ্রয় নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিলাইভ নেভিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা চাঁদের সম্পদ নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি। এখন বাস্তবে সেগুলো কাজে লাগানো যাবে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। এর পরের পদক্ষেপ হবে চাঁদের সম্পদগুলো ব্যবহার উপযোগী করা।’

চাঁদে বসতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) ‘মুন ২০২০-২০৩০-আ নিউ এরা অব কোঅর্ডিনেটেড হিউম্যান অ্যান্ড রোবোটিক এক্সপ্লোরেশন’ নামের একটি সিম্পোজিয়াম আয়োজন করেছে। এই সভায় চাঁদে বসতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন গবেষকেরা।

মোবাইল গেমে টেলর সুইফট

মার্কিন সংগীত শিল্পী টেলর সুইফটকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে মোবাইল গেম। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নামে গেম তৈরির জন্য চুক্তি করেছেন এই শিল্পী। 
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেগা স্টার সুইফট কিম কারদাশিয়ান ও কেটি পেরিকে অনুসরণ করে মোবাইল গেমের জগতে আসছেন। এ জন্য গেম নির্মাতা গ্লু মোবাইলের সঙ্গে চুক্তি করেছেন তিনি। ২০১৬ সালের শেষদিকে এ গেমটি বাজারে আসতে পারে বলে গ্লুর প্রধান নির্বাহী নিকেলো দ্য মাসি উল্লেখ করেছেন। টেলরের অনন্য সৃজনশীলতা গেমটিতে কাজে লাগানোর কথা বলেছেন তিনি। তবে গেমের নাম ও ধরন সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।