কানাডার আলবার্টা রাজ্যের ব্যানফ ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত ব্যানফ স্প্রিং হচ্ছে কানাডার সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেলগুলোর মধ্যে একটি। ব্যানফ স্প্রিং হোটেলের নির্মাণ পরিকল্পনা করেছিলেন আমেরিকান আর্কিটেক্ট ব্রুস প্রিন্স। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৮ সালের মধ্যে কানাডিয়ান প্যাসিফিক রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়। তবে ব্যানফ স্প্রিং হোটেলের আর একটি পরিচয় হচ্ছে কানাডার সবচেয়ে ভুতুড়ে স্থানগুলোর মধ্যে একটি। হোটেলটিকে ঘিরে নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার সাক্ষী আছেন অনেকেই। কথিত আছে, হোটেলটির সিঁড়িঘরে দুর্ঘটনায় একজন বিয়ের কনের মৃত্যুর কারণে এটি অভিশপ্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। মেয়েটি বিয়ের সাদা গাউন পরা অবস্থায় তার স্বামীর আগমন পথের সিঁড়িতে মোমবাতি জ্বালাচ্ছিল। হঠাৎ একটা মোমের আগুন লেগে যায় মেয়েটির গাউনে। সে আতঙ্কিত অবস্থায় সিঁড়িতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। তারপর থেকে বিয়ের গাউন পরা অবস্থায় তার আত্মাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় হোটেলের বিভিন স্থানে। হোটেলটিকে ঘিরে আরও একটি ঘটনা রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হোটেলটির ৮৭৩ নম্বর রুমে বাস করত একটি পরিবার। কে বা কারা যেন একদিন এসে তাদের সবাইকে ওই রুমে খুন করে ফেলে রেখে যায়। পুলিশি তদন্তে কোনো ফলাফল হয়নি। তারপর থেকেই ওই রুমে অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটত। রাতে আসবাবপত্র টানাটানির আওয়াজ, ছোট বাচ্চার কান্না, স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া! মানুষজন কেউ সেই রুমে বাস করার সাহস পেত না। তাই বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ দেয়াল তুলে এই কক্ষে ঢোকার পথ আটকে দিয়েছে, জানালাগুলোর কপাটও ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয়নি। হোটেলটিতে ভুতুড়ে কাজ কারবার চলছেই, যার ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি।
