উত্তর আয়ারল্যান্ডের আনট্রিম কাউন্টির অধীন বেলিগালি গ্রামে ১৬২৫ সালে নির্মিত হয় বেলিগালি ক্যাসেল, যা বর্তমানে হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি আয়ারল্যান্ডে ১৭০০ শতাব্দীতে তৈরি হওয়া একমাত্র ভবন, যা এখনো মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৬২৫ সালে জেমস শ নামে একজন স্কটিশ ব্যক্তি এই অঞ্চলে বসবাস করতে এসে তৎকালীন আর্ল অফ আনট্রিমের কাছ থেকে ২৪ পাউন্ডের বিনিময়ে একটি জমি ভাড়া নিয়ে বেলিগালি ক্যাসেল নির্মাণ করেন। ক্যাসেলটি সম্পূর্ণ স্কটিশ স্টাইলে নির্মিত। ১৯৫০ সালের পর হেস্টিংস হোটেলস গ্রুপ বেলিগালি ক্যাসেলের মালিকানায় একে হোটেলে রূপান্তর করে। হোটেলটি পরিচিতি পেয়েছে স্থানীয় মানুষের মাঝে প্রচলিত ভুতুড়ে কাহিনীগুলোর কারণে। মানুষের ধারণা, এই হোটেলে থাকতে এসে যারা মারা গেছেন, তাদের প্রায় সবারই আত্মা এই হোটেলে রাতের বেলায় ঘুরে বেড়ায়। লেডি ইসোবেল শ-এর কথা সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। লেডি ইসোবেলের একটা অদ্ভুত স্বভাব ছিল। সে প্রায়ই অন্য বাসিন্দাদের দরজায় টোকা দিয়ে পালাত। এ কারণে বিরক্ত হয়ে সবাই ইসোবেলের স্বামীর কাছে অভিযোগ জানায়। ইসোবেলের স্বামী রাগান্বিত হয়ে তাকে একটা কামরায় বন্দী করে রাখে। কিন্তু অভিমানী ইসোবেল তা মেনে নিতে পারেনি। সে জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকে তার আত্মা এই হোটেলেই স্থায়ী বসত গেড়ে আছে। এখনো হোটেলে রাতের বেলা দরজার গায়ে টোকার শব্দ পাওয়া যায়। কিন্তু দরজা খুলে দেখা যায় কেউ নেই! ম্যাডাম নিক্সন নামে আরও একজন মহিলা এই হোটেলে মারা যান। হোটেলের অন্ধকার করিডরে এখনো তার সিল্কের ড্রেস পরে হেঁটে যাওয়ার খসখস আওয়াজ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও নানা অতিপ্রাকৃত ঘটনার কারণে হোটেলের দক্ষিণ দিকের গম্বুজের নিজের ছোট রুমটিকে বলা হয় ‘দ্য ঘোস্ট রুম’।
