কলকাতায় ভূতের হোটেল নামে বেশ আলোচিত গ্র্যান্ড হোটেল। গোটা কলকাতার উচ্চাভিলাষী হোটেলগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ভ্রমণের অন্যতম হোটেলটি বর্তমানে অবরেয় গ্র্যান্ড নামেই পরিচিত। কলকাতার বুকে জওহরলাল নেহরু রোডের ওপর এর অবস্থান। তবে এর প্রাচীন নাম ছিল চৌরঙ্গী রোড। হোটেলটির মালিক হলেন অবরেয় হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস। এটি ব্রিটিশ যুগের মার্জিত ভবন এবং কলকাতায় একটি বিখ্যাত বিল্ডিং। গুজব হোক আর সত্যিই হোক জনপ্রিয় গ্র্যান্ড হোটেল ভুতুড়ে হোটেল। গুজব বলা হলেও বছরের পর বছর এই হোটেলে ভূতের আনাগোনা নিয়ে মানুষের আতঙ্ক আর কৌতূহলের কমতি নেই। রাত হলেই হোটেলের লবিতে ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা দেখার ঘটনা নেহাতই কম নয়। এ ছাড়া ১৯৪০ সালের টেডি বেদাফোর নামের কিংবদন্তি যিনি পিয়ানো বাদক ছিলেন। ১৯৪৫ সালে তিনি বেড়াতে এসে কোনো এক অদ্ভুত কারণে কলেরায় মারা যান। আরেকবার হোটেলবয় রাতের আঁধারে হোটেলের লবিতে ক্লিনার ভূতের দেখা পান। এ ছাড়া বিভিন্ন হোটেল সুইটের পাশের ঘর থেকে অচেনা নারীর কান্না ও মানুষের পদচারণার শব্দ শুনতে পাওয়ার কথাও শোনা যায়। কে বা কারা কক্ষের বাইরে ছোটাছুটি করে তা এখনো মানুষের কাছে রহস্যময়। এ রকম অসংখ্য ভৌতিক ঘটনা এখানকার নিত্যদিনের সঙ্গী। হোটেলে আগত অতিথিরা এ নিয়ে বারবার অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে তেমন কোনো ক্লু খুঁজে পাননি। বরং এসব নেহাতই মনের ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু ভয় উড়ে যায়নি। কারণ ভুতুড়ে কাণ্ড থেমে থাকেনি। পাশের ঘরে ফিসফাস আলাপ হওয়া, কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ দমকা বাতাস ঘরে ঢুকে পড়া, কোনো রকম নাড়াচাড়া ছাড়াই টেবিল থেকে গ্লাস মাটিতে পড়ে যাওয়ার মতো অদ্ভুত ঘটনা এত বারই ঘটেছে যে, এসবকে আর গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না!
